ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যু রোধ এবং সমুদ্রে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিচয়ের স্বীকৃতির দাবিতে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সামনে একটি ব্যতিক্রমী ‘ফ্ল্যাশ মব’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইতালির বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে উত্তাল সমুদ্রপথে প্রাণ হারানো হাজারো মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জ্ঞাপন করে।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নৌ-দুর্ঘটনার তারিখ এবং নিহতদের সংখ্যা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। তারা অভিযোগ করেন যে, পরিচয়হীনতার কারণে সমুদ্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো এক অনিশ্চিত যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবশ্যই সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে হবে এবং প্রতিটি মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে।
ইউরোপের অন্যতম প্রধান এই প্রশাসনিক কেন্দ্রের সামনে তরুণ শিক্ষার্থীদের এই উপস্থিতি অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের মানবিক দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। ভূমধ্যসাগর যেন বিশ্বের বৃহত্তম ‘গণকবর’ না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে ব্রাসেলসকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এই কর্মসূচি থেকে।
