ইউরোপের দেশ স্পেন সে দেশে বসবাসরত অনথিভুক্ত বা অবৈধ প্রবাসীদের শুধু বৈধতার কার্ড বা কাগজ দেওয়াই নয়, বরং তাদের সরাসরি মূলধারার কাজের বাজারে যুক্ত করার জন্য একটি বড় পরিকল্পনা শুরু করেছে। স্পেনের সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন হাজার হাজার মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে স্পেনের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর এই দেশে একটি তরুণ ও কর্মক্ষম জনবল তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পেনের অভিবাসন বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা পিল্যার কানসেলা সরকারের এই বিশেষ পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই বড় সুযোগের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই স্পেনের সুপ্রিম কোর্টে কিছু রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য আবেদন করে। তবে গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে বলা হয়েছে, কর্মসূচির প্রথম মাসেই রেকর্ড ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৯৬ জন অবৈধ অভিবাসী বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, যা সরকারের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম টিভিই (TVE) জানিয়েছে, সরকার ইতিমধ্যেই ৯১ হাজার ৫০৫ জনকে সাময়িক কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট দিয়েছে। স্পেনের অভিবাসন প্রতিমন্ত্রী পিল্যার কানসেলা জানান, দেশটির প্রশাসনের প্রায় ১০ লাখ পর্যন্ত আবেদন ভালো করে যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা রয়েছে।
একটি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অবৈধভাবে ও ট্যাক্স ছাড়া কৃষি, গৃহস্থালি কাজ ও মালামাল আনা-নেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করছেন। তাদের সঠিক উপায়ে কাজের সুযোগ করে দিতে সরকার নিচের পদক্ষেপগুলো নেবে:
১. দক্ষতা যাচাই: যে সমস্ত অভিবাসীদের সাময়িক কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তাদের কার কোন কাজের অভিজ্ঞতা আছে তা জানার জন্য সরকার একটি জরিপ বা তথ্য সংগ্রহ করবে।
২. মালিকদের সাথে যোগাযোগ: এই জরিপের মাধ্যমে জানা যাবে কার কোন কাজে দক্ষতা আছে এবং তারা স্পেনের কোন এলাকায় কাজ করতে চান। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন কল-কারখানা ও ব্যবসার মালিকদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে তাদের স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
স্পেনের অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের বয়স্ক মানুষদের পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধাগুলো সচল রাখতে স্পেনের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অতিরিক্ত অন্তত ২৪ লক্ষ নতুন করদাতার (ট্যাক্স দাতা) প্রয়োজন। অভিবাসন প্রতিমন্ত্রী কানসেলা পরিষ্কার করে বলেন, “এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে অন্ধকারের অর্থনীতি থেকে বের করে এনে করদাতার তালিকায় যুক্ত করাই হলো বুদ্ধিমত্তার কাজ, যা আমাদের দেশের সামাজিক সেবাগুলোকে টিকিয়ে রাখবে।”
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
