সোমবার, ২৩শে মার্চ, ২০২৬   |   ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০১০ থেকে ২০১৫ সালের সেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে গ্রিসের ব্যাংকিং খাত এখন সাফল্যের মুখ দেখছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশটির ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ প্রদানের অনুমতি পেয়েছে এবং ২০২৫ সালে প্রধান চারটি ব্যাংক সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো নিট মুনাফা অর্জন করেছে। তবে এই উজ্জ্বল চিত্রের আড়ালে গ্রিসের অর্থনীতির জন্য নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘সেকেন্ডারি ব্যাড লোন মার্কেট’ বা ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরের বিশাল পরিমাণ খেলাপি ঋণ।

২০১০-এর দশকে গ্রিসের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট পোর্টফোলিও’র প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা সামাল দিতে সরকারকে ৫০ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করতে হয়। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউরোব্যাংক, পিরাউস এবং আলফা ব্যাংক—এই প্রধান চারটি ব্যাংক এখন সম্পূর্ণ বেসরকারি মালিকানাধীন। ব্যাংকগুলোর অনুপার্জিত ঋণের হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা ইউরোপীয় অন্যান্য ব্যাংকগুলোর গড় হারের কাছাকাছি। এই স্থিতিশীলতা গ্রিসের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

২০১৯ সালে গ্রিস একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ইউরো সমমূল্যের খেলাপি ঋণ থার্ড-পার্টি লোন সার্ভিসার সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করে দেয়। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার হলেও সমস্যাটি রয়ে গেছে অর্থনীতির অন্য প্রান্তে। এই বিশাল পরিমাণ ঋণ এখন ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে থাকায় যে সব পরিবার বা প্রতিষ্ঠান এই ঋণের জালে আটকে আছে, তারা নতুন করে কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে না। ইসিবি-র মতে, এই অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ গ্রিসের মোট জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান।

এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিষ্পত্তি করাই এখন গ্রিসের অর্থনীতির জন্য সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। ঋণের জালে আটকে পড়া বিশাল এই অংশটি নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছে না, যা ব্যাংকগুলোর প্রবৃদ্ধি অর্থায়নের ক্ষমতাকে পরোক্ষভাবে সীমিত করে দিচ্ছে। গ্রিস সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এই সেকেন্ডারি মার্কেটের ঋণগুলো কীভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সেই পথ খুঁজছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version