সোমবার, ২৪ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাবানল ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক ইসরায়েলি নাগরিককে আটক করেছে গ্রিসের পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশটির ক্রিট দ্বীপে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার ৩৫ বছর বয়সী ওই পর্যটককে আটক করা হয়। আগামী রোববার তাকে রেথিমনোর আদালতে হাজির করা হতে পারে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে পর্যটন শহর প্লাকিয়াসের কাছে দক্ষিণ রেথিমনোর সেলিয়া গ্রামের একটি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ভাড়া করা ভিলার আঙিনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই ভিলায় কয়েকজন ইসরায়েলি পর্যটক অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তীব্র বাতাস এবং উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতার মধ্যেও তারা সেখানে বারবিকিউ জ্বালান। অগ্নিঝুঁকির কারণে ওই এলাকায় বারবিকিউ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ভিলার মালিক জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পর্যটকদের লিখিতভাবেও জানানো হয়েছিল।

তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বারবিকিউ জ্বালানো হয় বলে অভিযোগ। পরে বাতাসে উড়ে যাওয়া আগুনের স্ফুলিঙ্গ শুকনো গাছপালায় গিয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট পাঠানো হয়। দমকলের গাড়ি, পানিবাহী ট্যাংকার, হেলিকপ্টার ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে গ্রিস। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও রেথিমনো এলাকায় বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। ন্যাশনাল অবজারভেটরি অব অ্যাথেন্সের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই দিনে রেথিমনোর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার একর জমির গাছপালা পুড়ে যায়।

সে সময় ৮ হাজারের বেশি বাসিন্দা ও পর্যটককে বাড়ি ও হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ২২৪ জন দমকলকর্মী, ৫৩টি ফায়ার ইঞ্জিন ও ১১টি বিশেষ ইউনিট কাজ করে। আকাশপথে আগুন নেভাতে বিমান ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়।

অভিযানের সময় দুই দমকলকর্মী নিহত হন। তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। কোনো কোনো এলাকায় ঝোড়ো বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। এতে আকাশপথে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।

একাধিক দাবানলের পর গ্রিসের কর্তৃপক্ষ আগুন প্রতিরোধের নিয়ম ভাঙার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উচ্চ অগ্নিঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো গাছপালা পোড়ানো বা আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করতে পারে—এমন যেকোনো কাজও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version