সোমবার, ২৪ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালির উদ্দেশে যাওয়ার পথে তিউনিশিয়ার উপকূলের কাছে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ১৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন তিউনিশিয়ার একটি অভিবাসী অধিকার সংগঠনের প্রধান।তিউনিশিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান মোস্তফা আবদেল কেবির রয়টার্সকে জানান, নৌকাটি বৃহস্পতিবার ভোরে তিউনিশিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

উদ্ধার হওয়া দুজনের একজন স্থানীয় একটি নৌকার উদ্ধারকারীদের জানান, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর তারা কয়েক ঘণ্টা সমুদ্রে ভেসে ছিলেন। অপর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন আবদেল কেবির।

একসময় ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে যাওয়ার অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান যাত্রাপথ ছিল তিউনিশিয়া। তবে গত দুই বছরে দেশটি থেকে অভিবাসীদের যাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউরোপীয় অর্থায়নে পরিচালিত কঠোর অভিযান এবং বিশেষ করে ইতালির সহায়তায় জোরদার সীমান্ত নজরদারি ও সমুদ্র নিয়ন্ত্রণকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েক ডজন মানবাধিকার ও মানবিক সংস্থা এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ইইউ-তিউনিশিয়া অভিবাসন চুক্তির পর দেশটিতে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর গুরুতর নির্যাতন বেড়েছে এবং তা অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সংস্থাগুলো তিউনিশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান জানায়।

তিউনিশিয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির সরকার বারবার বলে আসছে, বড় ধরনের অভিবাসন প্রবাহের প্রধান ভুক্তভোগী তিউনিশিয়া। প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ ২০২৩ সালে দাবি করেছিলেন, এই অভিবাসন প্রবাহের উদ্দেশ্য তিউনিশিয়ার জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তন করা।

মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথ বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসনপথ হিসেবে পরিচিত। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসীরা ইউরোপে পৌঁছাতে প্রায়ই অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এবং সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী নৌকায় করে এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version