ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধের মারাত্মক প্রভাব এখন ইউরোপের সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে শুরু করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সোমবার এক জরুরি বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দুই পক্ষের এই লড়াইয়ের মাঝে পড়ে ইউরোপের সাধারণ নাগরিকেরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই যুদ্ধ এখন আর নির্দিষ্ট কোনো সীমানার মধ্যে নেই, বরং এটি পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শুধু তাই নয়, উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইরানের সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরা গড়ার অধিকারের প্রতিও সমর্থন জানান।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে তত বেশি টাকা খরচ হবে এবং অর্থনীতি বড় সংকটে পড়বে।
এছাড়াও, ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এই সংকট দ্বিমুখী চাপ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটলে ইউরোপের স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত আয় যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি দেশে থাকা পরিবারের জন্য পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শ্রমজীবী প্রবাসীদের জন্য এই বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
