ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন স্থানান্তর কর্মসূচির অধীনে আর অভিবাসীদের গ্রহণ করবে না আয়ারল্যান্ড। দেশটির বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাগান এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, তার দেশ কোনোপ্রকার স্থানান্তর কর্মসূচিতে অংশ নেবে না। বরং তার বদলে ২০২৭ সালে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য ৯.২৬ মিলিয়ন ইউরো দেবে।
আয়ারল্যান্ডের উত্তাপ টের পেয়েছে ইইউ। জোটটি মেনে নিয়েছে, আয়ারল্যান্ড আসলেই অভিবাসীদের চাপে ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই তাদের ইইউ মাইগ্রেশন সাপোর্ট টুলবক্সে অগ্রাধিকার থাকবে। এটি ইইউ সংস্থা, অফিস এবং সংস্থাগুলোর পরিচালিত। এটি প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেয়। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা এবং প্রত্যাবর্তন ও আবার এক করার কার্যক্রম সহজ করার জন্য সহায়তা দেয়।
ব্রাসেলসে ইইউ বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তির অধীনে একটি নতুন ইইউ প্রক্রিয়া ‘সংলিডারিটি পুল’-এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি অভিবাসী চাপে অসুবিধায় থাকা দেশগুলোকে বাড়তি সহায়তা দেবে। সদস্য দেশগুলোকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী সামলানো অন্যান্য ইইউ দেশ থেকে অভিবাসীদের স্ক্রিনিংয়ের জন্য গ্রহণ করতে পারে। ইইউ-র সামনে আরেকটি পথ হলো, চাপ কমাতে দেশগুলো একটি সাধারণ অভিবাসন তহবিলে অর্থ দিতে পারে।
ব্রাসেলসে মন্ত্রীরা অন্যান্য যেসব পদক্ষেপ নিতে রাজি হয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে ইইউ জোটভুক্ত দেশগুলোতে থাকা অভিবাসীদের জন্য একটি নতুন প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থা করা। অভিবাসীদের যেসব মাতৃভূমি এখন নিরাপদ দেশ সেগুলোর তালিকা তৈরির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কোনো দেশকে নিরাপদ তৃতীয় দেশ হিসাবে নির্ধারণের কারণগুলো হালনাগাদ করার একটি প্রস্তাবও পেশ করা হয়েছিল।
নতুন সংহতি ব্যবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিচারমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য ক্রমাগত অসংখ্য আবেদন পাওয়ার অভিজ্ঞতা আয়ারল্যান্ডের হয়েছে। সেইসঙ্গে অসংখ্য মানুষ দেশটিতে এসে অস্থায়ী সুরক্ষার উপকার নিয়েছে। এতে দেশটির নিজস্ব ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি ইউরোপীয় কমিশন জানে বলে জানান জিম ও’ক্যালাগান।
আইরিশ বিচারমন্ত্রী বলেছেন, সম্পাদিত চুক্তির ফলে অভিবাসীদের তীব্র চাপে থাকা দেশগুলো থেকে স্থানান্তরিত অভিবাসীদের গ্রহণ করার অথবা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামনে। এখন আয়ারল্যান্ডের পরবর্তী করণীয় কী? ও’ক্যালাগান বলেছেন, তার দেশের ব্যবস্থার ওপর চাপের কারণে আয়ারল্যান্ড স্থানান্তর গ্রহণ করবে না। তবে সবচেয়ে বেশি চাপে থাকা দেশগুলোকে সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি হিসাবে ২০২৭ সালে ৯.২৬ মিলিয়ন ইউরো দেবে দেশটি।
