রোমানিয়া গত অক্টোবর মাসে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে পরিচালিত কমপক্ষে ২০টি অভিযানে ২৮ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে পুলিশি প্রহরায় নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। শেঙ্গেন জোনে অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই অনিয়মিত অভিবাসন দমনে বুখারেস্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির জেনারেল ইনস্পেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই)।
আইজিআই জানায়, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসাররা ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অভিবাসন প্রত্যাবাসন অপারেশন পরিচালনা করেন। অভিযানে ধরা পড়া অভিবাসীদের কাউকে সীমান্ত চৌকিতে হস্তান্তর করা হয়, আবার কাউকে বিমানযোগে নিজ দেশে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অভিবাসন দপ্তরের মতে, যেসব কারণে সংশ্লিষ্ট বিদেশিদের ডিপোর্ট করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- ফেরত যাওয়ার নির্দেশ অমান্য করা, অনিয়মিত পথে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা, রোমানিয়ায় বিদেশিদের জন্য প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন।
ফেরত পাঠানো ২৮ জনের মধ্যে সর্বাধিক নয় জন ছিলেন নেপালের নাগরিক। এছাড়া তাদের মধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নাগরিকও ছিলেন ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোমানিয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ- ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজের ভিসায় প্রবেশ করেছে। কর্মক্ষেত্রে প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গ, বেতন ও কর্মঘণ্টা নিয়ে জটিলতা, নথি নবায়ন সংক্রান্ত সমস্যা, এসব কারণে অনেকেই পরবর্তীতে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। রোমানিয়া ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশের ‘ট্রানজিট দেশ’ হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
রোমানিয়ার জরুরি অধ্যাদেশ নম্বর ১৯৪/২০০২–এর ৮৮–৯৮ ধারা অনুযায়ী বিদেশিদের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। আইজিআই জানিয়েছে, ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় এসব আইনি কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সংস্থা, জেন্ডারমেরি, বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এবং এভিয়েশন ইউনিট দেশজুড়ে যৌথভাবে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে সীমান্তাঞ্চল ও জনবহুল শিল্পাঞ্চলে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে কাজ চলছে।
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ রোমানিয়া সমুদ্র ও আকাশপথে শেঙ্গেন জোনে যুক্ত হয়। আর ২০২৫ সালের প্রথম দিন থেকে স্থলসীমান্তও শেঙ্গেনভুক্ত হয়। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ায় রোমানিয়া এখন ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই অবস্থায় অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে দেশটি আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে বুখারেস্ট।
