শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ২০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় ইতালির দ্রুতগতির ট্রেন ‘ফ্রেচিয়ারোসা’-র পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে রোম, মিলান ও মিউনিখের মধ্যে উচ্চগতির ট্রেন যোগাযোগের পথ সুগম হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন বা অনুমোদনের অংশ হিসেবে ইতালির রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা ‘ফেরোভি ডেলো স্টাতো’ (এফএস) পরিচালিত এই ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হয়েছে। নতুন এই রুটে ট্রেনগুলো ইনসব্রুক হয়ে রোম থেকে মিউনিখ পর্যন্ত যাতায়াত করবে।

এফএস গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘নতুন ট্রেনের অনুমোদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর’ ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালে মিলান-মিউনিখ এবং রোম-মিউনিখ রুটে বাণিজ্যিকভাবে এই ট্রেন সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্রান্স ও স্পেনের পর এবার ইউরোপের কেন্দ্রস্থলেও প্রবেশ করছে ইতালির রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে। ২০২৯ সালের মধ্যে চ্যানেল টানেল হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এই উদ্যোগটি জার্মানির ডয়চে বান এবং অস্ট্রিয়ার ওবিবি রেলওয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

‘ব্রেনার বেস টানেল’ চালু হওয়ার পর এই যাত্রাপথের সময় প্রায় এক ঘণ্টা কমে যাবে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ইতালি ও জার্মানির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ট্রেন সেবা চালু হবে, যার অধীনে থাকবে ১০টি সংযোগ। প্রাথমিকভাবে মিলান, রোম ও মিউনিখ রুটে ট্রেন চলাচল করলেও পরবর্তীতে তা নেপলস এবং বার্লিন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।

নতুন এই সেবার অধীনে মিলান-মিউনিখ এবং রোম-মিউনিখ রুটে মোট চারটি সংযোগ থাকবে। মিলান-মিউনিখ রুটে ট্রেন চলাচলের সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা। এই যাত্রাপথে ট্রেনগুলো ব্রেশিয়া, ভেরোনা, রোভেরেতো, ট্রেন্তো, বলজানো ও ইনসব্রুক স্টেশনে থামবে। অন্যদিকে, রোম-মিউনিখ রুটে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা। এই রুটের প্রধান যাত্রাবিরতিগুলো হবে ফ্লোরেন্স, বলোনিয়া, ভেরোনা, রোভেরেতো, ট্রেন্তো, বলজানো এবং ইনসব্রুক।

এফএসের প্রধান নির্বাহী ও মহাব্যবস্থাপক জিয়ানপিয়েরো স্ট্রিশিউগলিও বলেন, ‘জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করা আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি পুরো ইউরোপে রেল যোগাযোগকে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আমাদের লক্ষ্যকেই নিশ্চিত করে।’ তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘ডয়চে বান এবং ওবিবির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা একটি উচ্চগতির “ইউরোপীয় মেট্রো” গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই সেবা বিভিন্ন অঞ্চল, মানুষ এবং অর্থনীতিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে।’

এফএস প্রধান আরও জানান, ফ্রেচিয়ারোসা ট্রেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সম্প্রসারণ বজায় রেখেছে। এর মাধ্যমে এফএস গ্রুপের প্রযুক্তিগত ও শিল্পগত উৎকর্ষ দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি একটি সমন্বিত ইউরোপীয় রেল নেটওয়ার্ক গঠনে সহায়তা করছে।

এই মাইলফলক অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইতালির অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি। তিনি একে বর্ণনা করে বলেন, ‘এটি এফএস গ্রুপের প্রবৃদ্ধি ও বিদেশের বাজারে নতুন জায়গা দখল করার সক্ষমতার আরেকটি প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি ইতালিতে আরও উন্নত সেবা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে তৈরি হবে কর্মসংস্থান, বাড়বে যোগাযোগ এবং ইউরোপজুড়ে ইতালির উপস্থিতি আরও দৃঢ় হবে।’

ট্রেনিতালিয়া এবং ডয়চে বানের মধ্যকার চুক্তির ফলে দুই দেশ নিজেদের কারিগরি দক্ষতা বিনিময় করতে পারবে। এর ফলে ট্রেনগুলোকে বিভিন্ন দেশের আলাদা বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে খাপ খাওয়ানো সম্ভব হবে, যা কারিগরি প্রক্রিয়াকে দ্রুত করার পাশাপাশি খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ট্রেনের প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির পাশাপাশি জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচিও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

ইউরোপীয় ইন্টারঅপারেবিলিটি কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা ফ্রেচিয়ারোসা ট্রেনটি ইতালি ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামের রেল নেটওয়ার্কে চলার উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে। নতুন এই ট্রেন যোগাযোগের ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে রেল সংযোগ আরও উন্নত হবে এবং ফ্রাঙ্কফুর্ট ও ক্রাকোর মতো গন্তব্যের যাত্রীদের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version