বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬   |   ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর একদল অভিবাসীর ভাগ্যে জুটল যমদূত। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূল থেকে ২১ জন বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে জীবন্ত কঙ্কাল অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অনাহার, পিপাসা আর সীমাহীন ক্লান্তিতে পথেই প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২২ জন হতভাগ্য মানুষ। শনিবার গ্রিক কোস্টগার্ড এই ভয়াবহ ও শোকাবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি ছাড়াও ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং ১ জন চাদের নাগরিক রয়েছেন।

গত ২১শে মার্চ লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে একটি রাবার বোটে করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তারা। মাঝ সমুদ্রে দিক হারিয়ে টানা ছয় দিন খাদ্য ও পানীয়হীন অবস্থায় ভাসতে থাকেন এই অভিবাসীরা। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন সেই ছয় দিনের বিভীষিকার কথা—ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় একে একে ২২ জন সঙ্গী নৌকার ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পাচারকারীদের নির্দেশে সেই নিথর দেহগুলো মাঝ সমুদ্রেই ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা। শুক্রবার রাতে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা এর একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে, যার মধ্যে দুজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুই দক্ষিণ সুদানি যুবককে ‘অবহেলাজনিত নরহত্যার’ দায়ে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এ বছরের শুরুতেই ৫৫৯ জন অভিবাসী সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন, যা গত বছর ছিল ২৮৭ জন। ইউরোপে ঢোকার এই মরণফাঁদ থামাতে আইন কঠোর করা হলেও, ভাগ্যের অন্বেষণে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া এই নিথর দেহগুলোর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে ভূমধ্যসাগরের আকাশ-বাতাস।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version