শনিবার, ২৫ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেদারল্যান্ডসের সিনেটে দেশটির পূর্ববর্তী সরকারের প্রস্তাবিত বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত ‘অ্যাসাইলাম ইমার্জেন্সি অ্যাক্ট’ বাতিল করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর এই আশ্রয় আইনের মূল লক্ষ্য ছিল শরণার্থীদের বসবাসের মেয়াদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলা। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি দল ‘পার্টি ফর ফ্রিডম’ (পিভিভি) এই আইনে এমন একটি সংশোধনী যুক্ত করতে চেয়েছিল, যেখানে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকে সহায়তা করাকেও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব ছিল। মূলত এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কারণেই সিনেটে আইনটি পর্যাপ্ত সমর্থন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।

তবে কঠোর এই আইনটি বাতিল হলেও সিনেট অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনে অনুমোদন দিয়েছে, যা নেদারল্যান্ডসের আশ্রয় ব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তন আনবে। নতুন এই ‘টু-স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের দুটি আলাদা শ্রেণিতে (এ এবং বি) ভাগ করা হবে। যারা জাতিগত পরিচয়, ধর্ম বা যৌন অভিমুখিতার কারণে ব্যক্তিগতভাবে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছেন, তারা পাবেন ‘এ স্ট্যাটাস’। এই শ্রেণির শরণার্থীরা তুলনামূলক বেশি সুযোগ-সুবিধা এবং নাগরিক অধিকার ভোগ করার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে, যারা যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়েছেন, তাদের দেওয়া হবে ‘বি স্ট্যাটাস’। এই শ্রেণির অভিবাসীদের জন্য রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ যেমন সীমিত থাকবে, তেমনি তারা কোনো ধরণের পারিবারিক পুনর্মিলনের  অধিকার পাবেন না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নতুন বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও নেদারল্যান্ডস সরকার একে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এই নতুন আইনের ফলে দেশটিতে আসা অভিবাসীদের মধ্যে কার কতটুকু সুরক্ষা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা কর্তৃপক্ষের জন্য সহজতর হবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version