বৃহস্পতিবার, ২৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোল্যান্ডে স্কুল ও মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (এবিডব্লিউ)। আদালত তাকে তিন মাসের প্রাক-বিচার আটকাদেশ দিয়েছেন।

আটক কিশোরের নাম পাওয়েল জি। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার চলমান এক তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়। অনলাইনে নব্য-নাৎসি ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর একই ধরনের গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করেছিল এবিডব্লিউ। তাদের যোগাযোগ ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা পাওয়েল জির সন্ধান পান।

এরপর কাতোভিৎসে শহরের এবিডব্লিউ কর্মকর্তারা তাকে আটক করে তার বাড়িতে তল্লাশি চালান। সেখান থেকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যম জব্দ করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, আগের দুই কিশোরের মতো পাওয়েল জিও টেলিগ্রাম ও ডিসকর্ডে নব্য-নাৎসি ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। সেখানে অতীতের সন্ত্রাসী হামলা ও সেসব হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা হতো। ভবিষ্যতে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও এসব আলোচনায় উঠে আসে।

এবিডব্লিউর দাবি, পাওয়েল জি ‘Atomwaffen Polska’ নামের একটি গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন এবং ‘Bierut Soldier ZNB’ নামের আরেকটি গোষ্ঠী গঠনে যুক্ত ছিলেন। এসব গোষ্ঠীতে নব্য-নাৎসি প্রতীক ও মতাদর্শের পাশাপাশি সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হতো।

স্কুল-মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ:

পাওয়েল জির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়া।

পোল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী ভালদেমার ঝুরেকের দাবি, ওই কিশোর একটি ‘গণসন্ত্রাসী হামলার’ পরিকল্পনা করছিল, যার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল একটি স্কুল ও একটি মসজিদ।

মন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, পোল্যান্ডে ফ্যাসিবাদ, ঘৃণা ও রক্তক্ষয়ী হামলার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তদন্তকারীরা আরও বলছেন, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাড়িতে তল্লাশির সময় ছুরি, একে-এম ধরনের রাইফেলের বেয়নেট, বই, প্যাচসহ ফ্যাসিবাদী ও নাৎসি প্রতীকযুক্ত বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জব্দ করা ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে স্কুল ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে গণহামলার পরিকল্পনা নিয়ে কথোপকথনের সন্ধান পাওয়ারও দাবি করেছে এবিডব্লিউ।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনায় সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ, হামলার পদ্ধতি এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয় উঠে আসে। গ্রেনেড ও মলোটভ ককটেল ব্যবহারের বিষয়েও বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

পাওয়েল জিকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version