গ্রিসে ৫০০ জনের বেশি অভিবাসী পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় থেসপ্রোতিয়া ও সালোনিকিতে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
শুক্রবার গ্রিক পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তদন্তে ২০২৫ সালের জুন থেকে অভিবাসী পরিবহনের অন্তত ৪১টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় চক্রটি অবৈধভাবে অন্তত ৭ লাখ ৫০ হাজার ইউরো আয় করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পাচারের শিকার ব্যক্তিরা নেপাল, ইয়েমেন ও চীনের নাগরিক। তারা আলবেনিয়া থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করতেন। এরপর প্রথমে তাদের দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় থেসপ্রোতিয়া এলাকায় নেওয়া হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে অভিবাসীদের অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্র কিংবা তাঁবুতে রাখা হতো। তাদের খাবার, পানি ও সিম কার্ডও সরবরাহ করত চক্রটি। এসব সুবিধার বিনিময়ে অভিবাসীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।
পরে আন্তনগর বাসে করে তাদের রাজধানী এথেন্স ও পাতরা শহরে পাঠানো হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রিসের বাইরে বিভিন্ন গন্তব্যেও পাঠানোর ব্যবস্থা করত চক্রটি।
কয়েকজন অভিবাসীকে পেলোপনিস অঞ্চলের বিভিন্ন খামারে অবৈধভাবে কাজ করতে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া, কয়েকটি ঘটনায় পাচারের বকেয়া অর্থের জামানত হিসেবে অভিবাসীদের পাসপোর্ট জব্দ করেন সন্দেহভাজনরা। পরে কাজ করিয়ে সেই অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা হতো তাদের।
আটক ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে আলবেনিয়া সীমান্তের কাছে থেসপ্রোতিয়ার সাগিয়াদা শহর থেকে এবং একজনকে সালোনিকি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সাতজন গ্রিসের নাগরিক। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন সিরিয়ার পুরুষ এবং একজন আলবেনিয়ার নারী।
এ ছাড়া, চক্রটির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৬ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি বিচার-পূর্ব আটক রয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। এর মাধ্যমে তারা পাচার কার্যক্রম সমন্বয়ের পাশাপাশি পুলিশের চলাচল ও অভিযানসংক্রান্ত তথ্যও আদান-প্রদান করত।
এদিকে, বৈধভাবে বসবাসের কাগজপত্র না থাকায় আরও ২১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে এক সন্দেহভাজনের বাড়িতে পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই ব্যক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে কাজ করছিলেন।
তিনটি বাড়ি ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ১ হাজার ১৫০ ইউরো এবং চারটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা সংস্থা ইউরোপোলের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে থেসপ্রোতিয়া, সালোনিকি ও পাতরা অঞ্চলের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অংশ নেয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের থেসপ্রোতিয়ার বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে।
