সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৩০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে বিদেশি নাগরিকদের জন্য আইনি কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকারি গেজেট ‘দিয়ারিও দা রিপাবলিকা’-তে ‘আইন নম্বর ৬২/২০২৬’ প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিকিউটিভ ডাইজেস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই আইনটি পর্তুগালে যথাযথ ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা বিদেশি নাগরিকদের বৈধ হওয়া বা নিয়মিতকরণের সুযোগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এর মাধ্যমে বিদেশিদের প্রবেশ, অবস্থান, বহিষ্কার, প্রাথমিক স্ক্রিনিং, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালার বড় ধরনের রদবদল ঘটানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো কর্তৃক অনুমোদিত এই নতুন আইনটি দেশটির পূর্ববর্তী ‘আইন নম্বর ২৩/২০০৭’-এর ৯২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করেছে এবং এর ৪ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদটি বাতিল করেছে। তবে যথাযথ রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে আসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা লেভেল-৪ কোর্সে অধ্যয়নরতদের রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি থাকতে হবে, প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে এবং পর্তুগালের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এসএনএস) বা উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকতে হবে।

এই আইনটি মূলত ২০২৪ সালে পর্তুগাল সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে উপযুক্ত রেসিডেন্স ভিসা ছাড়া দেশটিতে এসে সরাসরি বৈধ হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া নতুন এই আইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং কাজ ও বসবাসের একক অনুমোদনের (সিঙ্গেল পারমিট) বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও যুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নতুন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আবেদন জমার সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। তবে ব্যতিক্রমী কোনো পরিস্থিতি বা জটিল আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত কারণ দেখিয়ে এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version