শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬   |   ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র তাপদাহ, বাতাসে আর্দ্রতার নিম্নমুখী হার এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পর্তুগালের একটি বিশাল অংশজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্তুগালের মিলিটারি পুলিশ ‘জিএনআর’ দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছে, “সামনে অত্যন্ত কঠিন দিন আসছে।”

জিএনআর-এর কর্মকর্তা ইভান লিমা এক ভিডিও বার্তায় জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বছরের এই সময়ে সাধারণত সবাই এই ধরনের সতর্কবার্তা সব জায়গায় শুনে থাকেন। এটি ভালো, কিন্তু একই সাথে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে মনোযোগ দেওয়া কমিয়ে দেয়। কিন্তু আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হতে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে এবং চারপাশ শুষ্ক থাকবে।”

সাধারণত জিএনআর-এর পরিচিত স্লোগান হলো ‘কাউন্ট অন আস’ (আমাদের ওপর ভরসা রাখুন)। তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে এবার তারা স্লোগানটি উল্টে দিয়ে বলেছে, ‘উই আর কাউন্টিং অন ইউ’ (আমরা এখন আপনাদের ওপর ভরসা করছি); অর্থাৎ আগুন প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতাই এখন প্রধান হাতিয়ার।

পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রী লুইস নেভেস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে সরকার যেকোনো মুহূর্তে জরুরি অ্যালার্ট জারি করাসহ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের ওপর সাময়িক কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ‘সাঁও জুয়াও’ (São João) উৎসব উদযাপনের সময় ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট ফর সি অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার (IPMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহের শেষ নাগাদ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যেই ৫টি প্রধান জেলার অন্তত ২৩টি মিউনিসিপালিটিকে (উপজেলা) সর্বোচ্চ দাবানল ঝুঁকির আওতাভুক্ত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো:

– ব্রাগানসা 

– ক্যাস্টেলো ব্র্যাঙ্কো

– সান্তারেইঁ 

– পোর্তালেগ্রে 

– ফারো 

ছুটির দিনগুলোতে এই তাপপ্রবাহ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। পর্তুগালে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে এই সময়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য রেসিডেন্ট 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version