ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিদ্যমান অভিবাসন চুক্তি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে টিউনিশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়েস সইদ এই চুক্তিকে ‘অসম’ আখ্যা দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) আরব উইকলি এক প্রতিবেদনে জানায়, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক ফোনালাপে সইদ এই চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত এবং সমতাভিত্তিক করার আহ্বান জানান। টিউনিশীয় কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান চুক্তিটি অতিরিক্ত মাত্রায় অভিবাসন-কেন্দ্রিক এবং এতে টিউনিশিয়ার সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি।
২০২৩ সালে উত্তর আফ্রিকার প্রধান অভিবাসন প্রস্থানদ্বার হিসেবে পরিচিত টিউনিশিয়াকে ১০০ কোটি ইউরোর বেশি আর্থিক সহায়তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর বিনিময়ে টিউনিশিয়াকে ইউরোপাভিমুখী অনিয়মিত অভিবাসন রোধ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই চুক্তির কার্যকারিতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জুরিস্ট কমিশন (আইসিজে)-এর মতো সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে, টিউনিশিয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং সাধারণ নাগরিক সমাজ বর্তমানে অধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের উপকূলে নিয়মিত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মরদেহ ভেসে আসার ঘটনা এই চুক্তির নৈতিকতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ইইউ এবং টিউনিশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে। টিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সইদ এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন-সম্পর্কিত তহবিলকে ‘উপহাসজনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তাঁর দেশ কারও ‘দান বা অনুগ্রহ’ গ্রহণ করবে না। এমনকি টিউনিশিয়া ইইউ-র পাঠানো ছয় কোটি ইউরোর একটি কিস্তি ফেরত দিয়ে তাদের আত্মমর্যাদা ও সমতা-ভিত্তিক সম্পর্কের দাবিকে আরও জোরালো করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিউনিশ এবং ব্রাসেলসের মধ্যকার এই টানাপোড়েন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির জন্য একটি ‘লিটমাস টেস্ট’। টিউনিশিয়া এখন এমন একটি অংশীদারিত্ব চায় যেখানে তারা কেবল ইউরোপের ‘সীমান্তরক্ষী’ হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাধীন ও সমান অংশীদার দেশ হিসেবে স্বীকৃত হবে।
