কেবিন ক্রুদের কর্মসূচিতে বারবার পরিবর্তনের প্রতিবাদে ব্রিটিশ বাজেট এয়ারলাইনস ‘ইজিজেট’ (Easyjet) ফ্রান্সে তাদের প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ১৫ আগস্ট (শনিবার) ও ১৬ আগস্ট (রবিবার) এই দুই দিনে ফ্লাইটগুলো বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
ইউনিয়নগুলো জানিয়েছে, ফ্রান্সে কর্মরত ইজিজেটের ৯০০ জন কেবিন ক্রুর প্রায় অর্ধেকই এই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে প্যারিসের দুটি প্রধান বিমানবন্দরসহ নিস, বোর্দো এবং লিওন থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্রান্সের একটি প্রধান জাতীয় ছুটির দিনে এই ধর্মঘট ডাকায় ইজিজেট একে ‘সুবিধাবাদী আচরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। কম খরচে যাতায়াতের জন্য ফ্রান্স ইজিজেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সম্প্রতি মার্কিন প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম ‘অ্যাপোলো’ ৭.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে এয়ারলাইনসটি কিনে নেয়। ফ্রান্সে যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে এয়ার ফ্রান্সের পরেই ইজিজেটের অবস্থান।
যাত্রীরা যেন বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেন, সেজন্য শুক্রবারই বেশিরভাগ ফ্লাইট বাতিল করার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। এসএনপিএনসি-এফও ইউনিয়নের উইলিয়াম বুর্দো জানান, কেবিন ক্রুরা তাদের কর্মঘণ্টার ক্ষেত্রে ‘স্থিতিশীলতা’ চান।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্রুর ডিউটির সময় ও গন্তব্য সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ বার পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বুর্দো বলেন, ‘ক্রুদের ব্যক্তিগত জীবন বা সন্তানদের সময় দেওয়ার বিষয়টি এতে অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে। কারণ বেশিরভাগ পরিবর্তন শেষ মুহূর্তে—অর্থাৎ ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে জানানো হয়। এটি যেন স্থায়ী এক মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা।’
আলোচনায় অংশ নেওয়া তিনটি ইউনিয়ন ইতিমধ্যে ৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। বুর্দো জানান, যখন কোনো বিমানবন্দরে ইজিজেটের কর্মী সংকট দেখা দেয়, তখন অন্য বেস থেকে কর্মীদের ডেকে আনা হয়, যার ফলে সেই বেসে আবার নতুন করে ঘাটতি তৈরি হয়।
ধর্মঘটের আগে ইজিজেট কর্মীদের কাছে ছুটির দিনে এই কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল। এয়ারলাইনসটি জানায়, তারা কর্মীদের কাজের পরিবেশ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে এ নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলের ধর্মঘটে তেমন প্রভাব পড়েনি। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, সে সময় ধর্মঘটের দিনে কাজ করার জন্য কর্মীদের ৭০০ ইউরো পর্যন্ত বোনাসের প্রস্তাব দিয়েছিল কোম্পানিটি। বুর্দো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার যেন কোম্পানি এমন কোনো ‘অবৈধ’ কৌশল ব্যবহার না করে।
