উত্তর ফ্রান্সের গ্রাভলিন ও কালে উপকূলে আটকে পড়া হাজার হাজার অভিবাসীর জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে। গত বৃহস্পতিবার ফরাসি পার্লামেন্টের বিশেষ তদন্ত কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়ে পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা সরকারের ‘শূন্য প্রস্থান পয়েন্ট’ নীতি এবং বিতর্কিত ‘টোকে’ চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান অভিবাসন নীতি সমস্যা সমাধানের বদলে অভিবাসীদের এক ভয়াবহ ‘ফাঁদে’ ফেলে দিয়েছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সম্মানজনক পথ নেই।
মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অবজারভার’ শুনানিতে জানায়, ২০১৬ সালে কালের ‘জঙ্গল’ শিবির উচ্ছেদের পর থেকে নিয়মিতভাবে অভিবাসীদের অস্থায়ী তাবু বা শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জব্দ বা ধ্বংস করা হলেও অভিবাসীদের যাত্রা থামানো যাচ্ছে না। বরং উচ্ছেদের পর তারা আবারও একই জায়গায় ফিরে আসছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
অভিবাসন সহায়তা সংস্থা ‘ইতুপিয়া ৫৬’ সংসদ সদস্যদের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়াবহ আচরণের বিবরণ দিয়েছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, মাঝেমধ্যে যাত্রীবোঝাই নৌকায় কাঁদানে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। এমনকি সৈকতে মানুষের ভিড়ের ওপর দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ে অভিযান চালানোর মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে নৌকা পানিতে নামানোর আগেই ফুটো করে দেওয়া হচ্ছে, যা অভিবাসীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধরণের হস্তক্ষেপের দায়ে ইতোমধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তও শুরু হয়েছে।
অভিবাসী সহায়তা সংস্থা ‘সালাম’-এর প্রতিনিধি ক্লেয়ার মিলো এই পরিস্থিতিকে একটি ‘অচলাবস্থা’ নয় বরং ‘ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, অভিবাসীদের সামনে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথ বন্ধ, আবার ফ্রান্সেও তাদের সম্মানজনকভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। দুই দেশের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে আটকে পড়ে হাজার হাজার মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল কঠোর আইন বা পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন মৌলিক নীতিমালার পরিবর্তন।
