পর্তুগালের পালমেলায় তিনজন নাবালককে অপহরণ, বেধড়ক মারধর এবং বর্ণবাদী গালিগালাজ করার অভিযোগে চারজন ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (GNR) কর্মকর্তাকে ৯০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রী লুইস নেভেসের এই সিদ্ধান্তটি মূলত অভ্যন্তরীণ প্রশাসন সাধারণ পরিদর্শক দপ্তর (IGAI)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা দেশটির জননিরাপত্তা ও প্রশাসনের ওপর নাগরিকদের আস্থাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে নিজেদের আবাসস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া তিন যুবককে খুঁজে পাওয়ার পর দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের একটি পরিত্যক্ত কারখানায় নিয়ে যান। সেখানে নাবালকদের দেয়ালে হাত তুলে দাঁড় করিয়ে রেখে চড়, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এমনকি তাদের গায়ের রঙ ও জাতিসত্তা নিয়ে চরম অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে দায়িত্বের বাইরে থাকা আরেকজন জিএনআর সদস্যকে সেখানে ডাকা হয়, যিনি একজন নাবালককে লাঠি দিয়ে এতই মারধর করেন যে যন্ত্রণায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জ্ঞান হারানোর পরেও ওই শিশুটির ওপর নির্যাতন থামেনি। এমনকি তার গলায় ‘চোকহোল্ড’ প্রয়োগ করে শ্বাসরোধ করার চেষ্টাও করা হয়। পরবর্তীতে জিএনআর স্টেশনে নিয়ে গিয়ে হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। সবচেয়ে অমানবিক বিষয় হলো, স্টেশনের কাজ শেষে শিশুদের তাদের আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার পথে চলন্ত গাড়ির সামনে তাদের দৌড়াতে বাধ্য করা হয়। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ওই পুলিশ কর্মকর্তারা একটি ভুয়া রিপোর্টও তৈরি করেছিলেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ওই নাবালকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের অন্য এক কর্মীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরণের অপরাধ কেবল শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন নয়, বরং এটি সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির শামিল। দোষী সাব্যস্ত হলে এই কর্মকর্তাদের কেবল বরখাস্ত নয়, বরং আরও কঠোর বিভাগীয় ও আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। পর্তুগিজ সরকার এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বর্ণবাদী সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
