শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত বিল বাতিল করে দিয়েছেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত। বিলটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে শুক্রবার দেশটির সাংবিধানিক পরিষদ (কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল) এটি বাতিল ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর জন্য একটি বড় ধাক্কা, যিনি ইতিমধ্যেই তাঁর সরকারকে এই খসড়া আইনটি পুনরায় লেখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাংবিধানিক পরিষদ তাদের রায়ে বলেছে, ‘১৫ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন সেবায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে এই আইনটি কার্যত প্রত্যেক ব্যক্তি, এমনকি একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্যও সেখানে প্রবেশের আগে বয়স প্রমাণের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করে।’

আদালত আরও যোগ করেন, ‘তবে বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কী ধরনের শর্ত বা নিয়ম মেনে চলতে হবে, আইনসভা তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এই নিয়মগুলো অনুসরণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’

ফরাসি আইনপ্রণেতারা এর আগে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছিলেন। এর মাধ্যমে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এলিসি প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাংবিধানিক পরিষদের উদ্বেগগুলো আমলে নিয়ে খসড়া আইনটি পুনরায় তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৭ সালের বসন্তে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই এই সংস্কার আইনটি কার্যকর করতে মাখোঁ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে ফরাসি সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, মাখোঁ তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version