বৃহস্পতিবার, ১৯ই মার্চ, ২০২৬   |   ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ না কেনে, তবে দেশটির সঙ্গে ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতির ওপরই সবকিছু নির্ভর করবে। সোমবার (১৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, এয়ারবাস ফ্রান্সের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং তারা উচ্চমানের উড়োজাহাজ তৈরি করে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যকার আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ না পেলে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হবে না। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি এবং তাদের সিদ্ধান্ত সরকার নেয় না, তাই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ ও ফ্রান্স দীর্ঘদিনের পুরনো অংশীদার এবং স্বাধীনতার শুরু থেকেই ফ্রান্স বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত সমর্থক হিসেবে কাজ করে আসছে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্যের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, ফ্রান্স চায় আরও বেশি ফরাসি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক। এছাড়া সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেন এবং ফরাসি কূটনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার ‘নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতি’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version