বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬   |   ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানিতে দারিদ্র্য এক নতুন ও আশঙ্কাজনক মাত্রায় পৌঁছেছে, যা বিশেষ করে একক অভিভাবক, প্রবীণ নাগরিক এবং একা বসবাসকারীদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলছে। দেশের অন্যতম প্রধান জনকল্যাণ সংস্থা ‘প্যারিটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘টাগেশাউ’-এর বরাতে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে দেশটিতে দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমতে থাকলেও, বর্তমানে তা আবার রেকর্ড উচ্চতায় গিয়ে ঠেকেছে।

সমীক্ষার তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানির মোট জনসংখ্যার ১৬.১ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেশি। এই হার দেশটির প্রায় ১৩.৩ মিলিয়ন (১ কোটি ৩৩ লাখ) মানুষের সমান, যারা বর্তমানে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে অথবা এর তীব্র ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। সংজ্ঞা অনুসারে, জার্মানিতে কোনো ব্যক্তি যদি গড় আয়ের ৬০ শতাংশের কম উপার্জন করেন, তবে তাকে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। যেমন—একা বসবাসকারী একজন বাসিন্দার জন্য এই সীমাটি প্রতি মাসে ১,৪৪৫ ইউরো নিট আয় হিসেবে নির্ধারিত।

এই পরিস্থিতিকে একটি বড় “সংকট” বলে অভিহিত করেছেন প্যারিটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জোয়াকিম রক। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্র যদি সামাজিক পরিষেবাগুলোতে বাজেট কাটছাঁট করা অব্যাহত রাখে, তবে আগামীতে দেশের এই দরিদ্র চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জার্মানির সব অঞ্চলে দারিদ্র্যের প্রভাব সমান নয়। বাভারিয়া এবং বাডেন-ভুর্টেমবের্গ রাজ্য দুটি এই সংকটে সবচেয়ে কম প্রভাবিত হলেও ব্রেমেন, হামবুর্গ, বার্লিন এবং স্যাক্সনি-আনহাল্টে দারিদ্র্যের হার অনেক বেশি, যা সর্বোচ্চ ২৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতি পাঁচজন জার্মান নাগরিকের মধ্যে একজন এখন দরিদ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। একক অভিভাবক এবং একা বসবাসকারীদের পাশাপাশি স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিরাও এর শিকার। সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ করেছে যে, যেখানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা জার্মান নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ সীমিত, অর্থাৎ কাঠামোগত বৈষম্য বিদ্যমান, সেখানেই দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি বাড়ছে।

তথ্যসূত্র: আইএম এক্সপ্যাট 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version