কাজের পরিবেশের উন্নয়ন এবং বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে প্যারিসের রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন ফ্রান্সের হাজার হাজার পুলিশ কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার ‘অ্যালায়েন্স পুলিশ ন্যাশনাল’ ইউনিয়নের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলটি প্যারিসের বিখ্যাত শ্যঁজ-এলিজে থেকে শুরু হয়ে জাতীয় পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পদযাত্রা শেষে ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা নিজেদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। পরে তাঁরা সাংবাদিকদের জানান যে, মন্ত্রণালয় তাঁদের অসন্তোষ ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।
ফরাসি পুলিশ বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাদের বিশেষ দায়িত্ব ভাতা বা ‘ঝুঁকি ভাতা’, যা ২০১৯ সালের পর থেকে আর বাড়ানো হয়নি। এছাড়া প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক কর্মীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, ক্যারিয়ারের পদোন্নতি এবং তীব্র কর্মী সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নগুলো। অ্যালায়েন্স পুলিশ ইউনিয়ন জানিয়েছে, তাদের সামগ্রিক চাহিদা মেটাতে বছরে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৫০ কোটি (৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন) ইউরোর প্রয়োজন হবে।
বিক্ষোভের আগে রেনেস শহরে কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেন। জনবল সংকট, কাজের সরঞ্জামের ঘাটতি এবং উপযুক্ত বেতনের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের আধুনিক সরঞ্জাম দরকার, আমাদের পর্যাপ্ত জনবল দরকার এবং আমাদের বেতনে যথাযথ মূল্যায়ন দরকার।’ তিনি অভিযোগ করেন যে পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর অ্যালায়েন্স, ইউনিটে এবং উনসা পুলিশ ইউনিয়নের নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরাঁ নুনিয়েজের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে সে সময় বাজেট সংক্রান্ত দাবিতে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ইউনিয়নগুলো হতাশা প্রকাশ করেছিল।
তবে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের পর পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর অ্যালায়েন্স ইউনিয়নের মহাসচিব ফ্যাবিয়েন ভ্যানহেমেলরিক বলেন, পুলিশ সদস্যদের সংকটের গুরুত্ব অনুধাবনে কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল এটুকুতেই সন্তুষ্ট হতে পারি যে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং সমাধানের ব্যাপারে তাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’ তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি সুনির্দিষ্ট ‘পরিকল্পনা’ তৈরির জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ‘কয়েক দিন’ সময় চেয়েছেন।
গ্রীষ্মের শুরুতে অ্যালায়েন্স ইউনিয়ন ‘জিরো ইনিশিয়েটিভ’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছিল, যাতে পরবর্তীতে ‘ইউনিটে’ ইউনিয়নও যোগ দেয়। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পেশাগত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখেই মূলত সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে রাজপথে নেমেছেন পুলিশ সদস্যরা।
