ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আধুনিক নগর জীবনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি এখন আর শুধু ভূপৃষ্ঠের ব্যস্ত সড়ক নয়; মাটির নিচে গড়ে উঠেছে এক বিশাল, সুসংগঠিত এবং অবিরাম চলমান এক সমান্তরাল নগরী। এই ভূগর্ভস্থ জীবনের প্রাণকেন্দ্র হলো ‘প্যারিস মেট্রো’, যা আধুনিক প্রকৌশল ও নগর পরিকল্পনার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই মেট্রো নেটওয়ার্কে মানুষের ঢল নামে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ যাত্রী এই পথ ব্যবহার করেন। অফিসগামী কর্মী থেকে শুরু করে পর্যটক সবার জন্যই এটি এখন অপরিহার্য। ১৯০০ সালে ‘Exposition Universelle’ উপলক্ষে শুরু হওয়া এই যাত্রা বর্তমানে ১৬টিরও বেশি লাইন এবং শত শত স্টেশনের এক সুবিশাল জালে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় (চালকবিহীন) ট্রেনের সংযোজন এই শতাব্দী প্রাচীন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
এই ভূগর্ভস্থ নগরীর স্থাপত্য শুধু ট্রেনের লাইনেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ভেতরে রয়েছে কয়েক স্তরের করিডর, টানেল এবং বিশাল সব ট্রান্সফার স্টেশন। স্টেশনের বৈচিত্র্যময় নকশা এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সরাসরি সংযোগ থাকায় এটি বিশ্বজুড়ে আসা পর্যটকদের কাছেও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেট্রো ব্যবস্থা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্যারিসের যানজট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখছে। সব মিলিয়ে, প্যারিসের মাটির নিচের এই ব্যস্ততা আধুনিক শহর জীবনের গতি ও ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর
