শুক্রবার, ২৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্স ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারির মধ্যেও চরম ঝুঁকি নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। সম্প্রতি ফ্রান্স উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি ছোট ডিঙি নৌকায় করে টানা ৩৬ ঘণ্টা উত্তাল সাগরে ভেসে থাকার পর অবশেষে ৫১ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যের ডোভার উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।


এদিকে অভিবাসীদের এই আগমনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অভিবাসীদের বহনকারী নৌকাটি পৌঁছানোর খবর পেয়ে হ্যাম্পশায়ারের গোসপোর্ট শহরে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন, যাঁদের অনেকের পরনে ছিল কালো পোশাক ও মুখে মুখোশ। বিক্ষোভ একপর্যায়ে পুলিশের ওপর চড়াও হলে এবং মারমুখী রূপ নিলে সেখান থেকে ছয়জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবী কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দুর্বল নৌকায় থাকা অভিবাসীরা দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় সাগরে ছিলেন। ফরাসি মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ওই নৌকার আরোহীরা ফরাসি উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কারণ যেকোনো মূল্যে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে তাঁরা সব ধরনের ঝুঁকি নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন।


সাধারণত ইংলিশ চ্যানেলের যে অংশে দূরত্ব কম, সেই কেন্ট উপকূল দিয়েই অভিবাসীদের নৌকাগুলো বেশি প্রবেশ করে। তবে সম্প্রতি নজরদারি এড়াতে পাচারকারীরা দূরবর্তী নতুন রুট ব্যবহার করছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথ উপকূলে ছোট নৌকা আসার পর সেখানেও শত শত মানুষ জড়ো হয়ে অভিবাসীদের আটকানোর চেষ্টা চালায়। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হ্যাম্পশায়ার এখন মানবপাচারের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে। ফরাসি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় টহল কম থাকে, তেমন পশ্চিম উপকূল থেকে অভিবাসীদের যাত্রা করার প্রবণতা বাড়ায় তাঁদের ওপর চাপ বাড়ছে।


যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, ২০১৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে গত আগস্টে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং ২০২০ সালের পর থেকে মাসিক হিসাবে অভিবাসী আগমনের সংখ্যাও ছিল সর্বনিম্ন। তবে সামগ্রিক যাত্রা কমলেও সম্প্রতি প্রতিটি নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।


হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে ১৭,৪৮০ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে বৈধ পথে আসা মোট অভিবাসীদের তুলনায় বিপজ্জনক এই নৌপথে আসা মানুষের সংখ্যা খুবই সামান্য।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version