মঙ্গলবার, ২৪ই মার্চ, ২০২৬   |   ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিকে দ্রুত স্থিতিশীল করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সিরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। গত বুধবার জার্মান প্রেস এজেন্সি (ডিপিএ)-র হাতে আসা একটি বিশেষ নীতিমালা নথিতে বার্লিন এই প্রস্তাবনা পেশ করেছে। জার্মান কর্মকর্তাদের মতে, সিরিয়ার অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন ও উন্নতি ঘটলে ইউরোপে আশ্রয় নেওয়া সিরীয় শরণার্থীরা নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত হবেন, যা এই অঞ্চলের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনে পাঠানো ওই নথিতে জার্মানি সিরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন পুনরায় গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা বলেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা, যাতে তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় তাদের থমকে যাওয়া কার্যক্রম ও বিনিয়োগ পুনরায় চালু করতে পারে। এছাড়া সিরিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষি ও বস্ত্রশিল্পের বিকাশে বাণিজ্যের শর্তাবলী শিথিল করার ওপর জোর দিয়েছে জার্মানি। বার্লিন মনে করে, এই দুটি খাতের পুনর্জাগরণ সিরিয়ার সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানি পরামর্শ দিয়েছে যে, ইইউ যেন দামাস্কাস বা দামেস্কের বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও ব্যাপক ভিত্তিক একটি সহযোগিতামূলক কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় একটি উত্তরণকালীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জার্মানি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো এখন মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কাঠামোগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে সিরিয়াকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, যাতে শরণার্থীরা ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ উপায়ে ফিরে যেতে পারেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version