সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী রাজ্য সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সামান্য পিছিয়ে রয়েছে দলটি।

নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)।

এএফডির গভর্নর পদপ্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে বলেন, ভোটাররা তাদের দলকে দেশ শাসনের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছেন।

জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে তিনি বলেন, ভোটাররা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ‘এভাবে আর চলতে পারে না’। নির্বাচনী প্রচারণায় চ্যান্সেলর মের্ৎসই তাদের অন্যতম সেরা প্রচারক ছিলেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানান সিগমুন্ড। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মাস্কের সমর্থন ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন।

এর আগে এএফডির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালিস ভাইডেল দলটির সম্ভাব্য জয় নিয়ে একটি পোস্ট করলে তাতে জার্মান ভাষায় ‘দারুণ হয়েছে!’ মন্তব্য করেছিলেন মাস্ক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কোনো মন্তব্য ছাড়াই নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাসসংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। পরে রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সেটি শেয়ার করে এএফডির সম্ভাব্য ফলকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এএফডিকে দীর্ঘদিন ধরেই ক্রেমলিনপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলটি ইউক্রেনকে সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং ইউক্রেনীয়দের শরণার্থী মর্যাদা দেওয়ার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তিন আসন দূরে

৮৩ আসনের স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি পেয়েছে ৩৯টি আসন। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দলটি তিন আসন পিছিয়ে রয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী প্রধান প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সরকার গঠনের মতো কোনো ‘খেলায়’ এএফডি যাবে না। তবে দলটিকে বাদ দিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নির্বাচনে এএফডি পেয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ওই নির্বাচনে দলটির ভোটের হার ছিল ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে সিডিইউ পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ও ১৫টি আসন। আগের নির্বাচনের তুলনায় দলটি প্রায় অর্ধেক সমর্থন হারিয়েছে।

সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) পেয়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। গ্রিনস পেয়েছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দ্য লেফট ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। তিন দলই পেয়েছে আটটি করে আসন।

বিএসডব্লিউ পেয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট ও পাঁচটি আসন। দলটি জানিয়েছে, তারা সিগমুন্ড বা বর্তমান গভর্নর স্বেন শলৎস—কাউকেই সমর্থন করবে না। তবে এএফডির সঙ্গে জোট না করার মূলধারার দলগুলোর তথাকথিত ‘ফায়ারওয়াল’ নীতির সমালোচনা করেছে বিএসডব্লিউ।

নির্বাচনে রেকর্ড ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ফলাফলের পূর্বাভাস প্রকাশের পর সমর্থকদের উদ্দেশে সিগমুন্ড বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়—এমন সব গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত। তবে অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

সিডিইউ নির্বাচনের ফলকে ‘তিক্ত’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে এএফডির সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছে দলটি। এএফডিও সিডিইউর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে এএফডির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালিস ভাইডেল দাবি করেছেন, নির্বাচনের ফল তাদের দলকে সরকার গঠনের ‘স্পষ্ট ম্যান্ডেট’ দিয়েছে। সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই রাজ্যে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। নির্বাচনের আগে করা শেষ কয়েকটি জরিপে এএফডির সমর্থন ছিল ৪০ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটিতে মের্ৎসের রক্ষণশীল সিডিইউ বিভিন্ন ছোট দলের সঙ্গে জোট করে সরকার পরিচালনা করে আসছে। তবে এবারের নির্বাচনের ফল স্যাক্সনি-আনহাল্টের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version