সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্টিন ফিস্টার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে যখন মধ্যপ্রাচ্য উত্তাল, ঠিক তখনই ইউরোপের অন্যতম নিরপেক্ষ দেশ সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রতিবাদ এলো।

রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত ‘সোনটাগস জেইতুং’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্টিন ফিস্টার বলেন, “সুইস ফেডারেল কাউন্সিল মনে করে ইরানের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।” সুইস মন্ত্রিসভার বরাত দিয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তাদের দৃষ্টিতে এটি ‘সহিংসতা নিষেধাজ্ঞার’ একটি বড় লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “আমেরিকান ও ইসরায়েলিরা আকাশপথে ইরানে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।”

সুইজারল্যান্ডের এই অবস্থান মূলত জার্মানি ও স্পেনের প্রতিবাদেরই প্রতিধ্বনি। জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর লার্স ক্লিঙবেল সম্প্রতি এই যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ক্লিঙবেলের সতর্কবাণী উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, বিশ্ব ক্রমশ এমন এক গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে যেখানে কোনো নিয়ম অবশিষ্ট থাকবে না এবং কেবল ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি কার্যকর হবে। স্পেনও ইতিমধ্যে এই বোমাবর্ষণকে ‘হঠকারী’ ও ‘অবৈধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আগ্রাসনের জবাবে তেহরানও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ১০টিরও বেশি দেশে একযোগে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে ইরান তার শক্তির জানান দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘ সনদের ‘আগ্রাসন নিষেধাজ্ঞা’ লঙ্ঘনের মাধ্যমে চালানো এই হামলার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপীয় নেতাদের মতে, এ ধরনের হামলা বিশ্বশান্তিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে বেসামরিক জীবন রক্ষা এবং সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version