বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে পর্তুগিজ নাগরিকত্বের আবেদন জমা দিতে এক বিশেষ “ওয়াক-ইন ডে” উপলক্ষে হাজারো মানুষের ভিড় জমে। শুক্রবার সকালে রামাত হাশারনে অবস্থিত সিনি‌মা সিটি গ্লিলোট কমপ্লেক্সের বাইরে এই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যা মূল ভবন ঘুরে নিচের পার্কিং পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল –এর বরাতে জানা যায়, দূতাবাসের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চাপের মুখে থাকায় একদিনের জন্য সরাসরি আবেদন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কোনো পূর্বনির্ধারিত সময় ছাড়া সরাসরি এসে আবেদন জমা দেয়ার সুযোগ থাকায় ভোর থেকেই মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। দূতাবাস পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, “হাজার হাজার” মানুষ আবেদন করতে পেরেছেন এবং কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালে পর্তুগাল সরকার সেফার্ডি ইহুদি বংশোদ্ভূতদের নাগরিকত্ব দেওয়ার একটি বিশেষ আইন চালু করে। ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের বহু মানুষ এই আইন অনুযায়ী পর্তুগিজ পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য হন।

সম্প্রতি ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকে অনেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিতীয় পাসপোর্টকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছেন। পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পেলে ইইউর ভিসামুক্ত ভ্রমণ, চাকরি এবং বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়।

পর্তুগিজ সরকার জানায়, সেফার্ডি বংশোদ্ভূতদের পুনরায় নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্য মূলত “ঐতিহাসিক অবিচারের প্রতিকার”। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক আবেদন জমার কারণে শর্ত কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এখন আবেদনকারীদের পর্তুগালের সঙ্গে বাস্তব সংযোগ বা বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে।

ইসরায়েলে দ্বিতীয় পাসপোর্টের প্রতি এই হঠাৎ আগ্রহ, বিশেষ করে নিরাপত্তা অস্থিরতার সময় অন্য দেশগুলোর জন্যও একটি ইঙ্গিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত দেশে বসবাস, শিক্ষা বা চাকরির সুযোগের কারণে অনেকেই বিকল্প নাগরিকত্বের পথ খুঁজছেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version