মঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং তার দল দেশটির নির্বাচনী আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। তবে এই পদক্ষেপকে সহজভাবে নিচ্ছে না বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, ২০২৭ সালের আগামী নির্বাচনে হারার ভয়ে মেলোনি সরকার ‘ভোটের নিয়ম’ বদলে দিচ্ছে যাতে যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায়।

বর্তমান ব্যবস্থা:

ইতালিতে বর্তমানে ‘রোসাটেলাম’ নামক একটি মিশ্র নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় ৬০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ একক সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ আসন দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হারের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে বণ্টিত হয়। সংসদে প্রবেশের জন্য একটি দলকে অন্তত ৩% ভোট পেতে হয়।

নতুন আইনে যা আছে:

প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো দল বা জোট নির্বাচনে অন্তত ৪০% ভোট পায়, তবে তারা সংসদে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা বেশি আসন পাবে। একে বলা হচ্ছে ‘মেজোরিটি বোনাস’। যদি কেউ ৪০% ভোট না পায় এবং বড় দুটি জোটই ৩৫% এর বেশি ভোট পায়, তবে তাদের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভোট বা ‘রান-অফ’ হবে।

কেন এই পরিবর্তনের চেষ্টা?

২০২২ সালের নির্বাচনে মেলোনির ডানপন্থী দল সহজেই জিতেছিল কারণ বিরোধীরা তখন এক ছিল না। কিন্তু আগামী নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলো জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জনমত জরিপ বলছে, বিরোধীরা এক হলে মেলোনির ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি আছে। তাই বিরোধীদের ঠেকাতেই এই আইন পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করছে মধ্য-বামপন্থী ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি’।

বিশেষজ্ঞদের চিন্তা:

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। নতুন নিয়মে সংসদে এমন জটিলতা তৈরি হতে পারে যেখানে কোনো একটি জোট পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাবে না, ফলে সরকার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া, ভোটাররা আগে সরাসরি তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে পারতেন, কিন্তু নতুন নিয়মে সেই সুযোগ কমে যাবে। দলগুলোই ঠিক করে দেবে কারা সংসদ সদস্য হবেন। বর্তমানে ইতালির সংসদে এই আইন নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version