মঙ্গলবার, ২৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছদ্মবেশ ধারণ করে ইতালির বৃহত্তম ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ইন্তেসা সানপাওলোর প্রাইভেট ব্যাংকিং শাখা ফিদিয়ুরাম থেকে ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার) হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকেরা।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। পরে চুরি যাওয়া অর্থের প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরো উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আরও প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইতালির সংবাদমাধ্যম করিয়েরে দেল্লা সেরা প্রথম এ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতারণার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই সময় ফিদিয়ুরামের তৎকালীন চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি ইন্তেসা সানপাওলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কার্লো মেসিনার কাছ থেকে এসেছে বলে মনে হওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান।

বার্তায় একটি বৈদেশিক লেনদেনের জন্য জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। পরে অনুরোধটির সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি নামী আইন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ অংশীদারের নম্বর থেকে এসেছে বলে মনে হওয়া একটি ফোন কল করা হয়।

সূত্রগুলোর মতে, ওই আইনজীবীর কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল প্রতারকেরা।

অনুরোধটি সত্যি মনে করে মোলেসিনি তাঁর অর্থ বিভাগকে চীন ও হংকংয়ের কয়েকটি বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইন্তেসা সানপাওলো ও ফিদিয়ুরাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অর্থ স্থানান্তরের অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে ফিদিয়ুরাম। এরপর বেশ কয়েকটি দেশের ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, চীন, পর্তুগাল ও ইতালির কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় পরে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরো উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তবে বাকি অর্থ বিভিন্ন বিদেশি অ্যাকাউন্ট ঘুরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হওয়ায় এর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মোলেসিনি বা ফিদিয়ুরামের অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ঘটনায় তদন্ত চলছে না। তবে মিলানের প্রসিকিউটররা কম্পিউটার জালিয়াতির সন্দেহে ইউরোপের বাইরে বসবাসকারী এক বিদেশি নাগরিককে তদন্তের আওতায় এনেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

মোলেসিনি গত মার্চে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ফিদিয়ুরামের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের সময় ফিদিয়ুরামের পক্ষ থেকে এর বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত বছরও এআই ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছিল ইতালিতে। দেশটির এক মন্ত্রীর কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারকেরা ব্যবসায়ী মাসিমো মোরাত্তিকে একটি বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লাখ ইউরো পাঠাতে প্ররোচিত করে। পরে ওই অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version