সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৩০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন পুলিশ ও শুল্ক কর্মকর্তারা। এ সময় এক যাত্রীর ব্যাগে সাধারণ কাগজে মোড়ানো একটি পার্সেল দেখতে পান তাঁরা। পার্সেলটি খুলতেই বেরিয়ে আসে কুমিরের কাটা একটি মাথা।

ইতালির তুরিন শহরের ক্যাসেল বিমানবন্দরে ওই যাত্রীর ব্যাগ থেকে বিপন্নপ্রায় প্রজাতির কুমিরের শুকনো মাথাটি উদ্ধার করা হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে ইতালিতে পৌঁছান।

ইতালির আর্থিক অপরাধ দমন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, সংরক্ষিত ও বিপন্নপ্রায় প্রজাতির প্রাণীর অবৈধ বেচাকেনা ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে সেদিন বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছিল পুলিশ। তল্লাশির একপর্যায়ে ওই যাত্রীর লাগেজ থেকে কুমিরের কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কুমিরের মাথাটি শুকনো অবস্থায় সাধারণ কাগজে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। এ কারণে যাত্রা শুরুর দেশটির তল্লাশি এড়িয়ে সেটি নিয়ে আসতে সক্ষম হন ওই ব্যক্তি।

উপযুক্ত সনদ বা লাইসেন্স ছাড়া সংরক্ষিত প্রজাতির বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে কুমিরের মাথাটি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইতালির আইন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই ব্যক্তিকে ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত ওয়াশিংটন কনভেনশনের আওতায় কুমির বিপন্নপ্রায় প্রাণী হিসেবে সুরক্ষিত। বিশ্বব্যাপী বিপন্নপ্রায় প্রাণী ও উদ্ভিদের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতেই এই কনভেনশন করা হয়েছিল।

গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, ইতালিতে বিদেশি পশুপাখির অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সংগঠিত অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অনেক স্যুভেনির দোকানে শুকনো কুমিরের মাথা বিক্রি হয়। অনেক পর্যটক না জেনেই এগুলো উপহার বা স্মারক হিসেবে কিনে থাকেন। এসব প্রাণীর দেহাবশেষ কেনাবেচা যে অনেক ক্ষেত্রে আইনত দণ্ডনীয়, তা অনেকেরই জানা নেই।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version