বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি সতর্ক করেছেন যে, মানবপাচার একটি বৃহৎ ও লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার ব্যবসার বার্ষিক আয় প্রায় ৫-৬ বিলিয়ন ডলার, যার ২০ শতাংশ বা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আসে ভূমধ্যসাগর রুটে ইতালি অভিমুখী যাত্রা থেকে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ইতালি সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ফলে গত বছরের তুলনায় অবৈধ অভিবাসী আগমন ৬০ শতাংশ কমেছে, যা ইতালির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একটি বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

পিয়ান্তেদোসি উল্লেখ করেছেন যে…

মানবপাচারকারীরা আধুনিক বিপণন কৌশল ব্যবহার করছে। তারা ‘অল-ইনক্লুসিভ ট্যুরিস্ট প্যাকেজ’ অফার করছে, যেখানে লিবিয়া থেকে ইতালি পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ, এবং ফ্রান্স বা জার্মানিতে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত। এই প্যাকেজগুলি অনলাইনে বিক্রি করা হয়, যা অভিবাসীদের জন্য একটি প্রলোভন তৈরি করে।

বিশেষভাবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা অভিবাসীরা (বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) প্রধান এই রুট ব্যবহার করে। তবে মে মাসে দুই দেশের সঙ্গে করা চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ যাত্রা কিছুটা কমেছে।

ইতালিতে সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৬ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ১ হাজার জন স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছে, যা মানবিক ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ।

এছাড়া, পাকিস্তান থেকে গ্রিস ও স্পেনে পাচার রোধের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক বৈঠকের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মানবপাচারকে সীমিত করা এবং বৈধ অভিবাসন ও শ্রমিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা।

পিয়ান্তেদোসি বলেন…

ইতালির লক্ষ্য পুরোপুরি অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করা।

ইতালির নীতি ইতালিতে এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যকর হচ্ছে। সীমান্ত নজরদারি, কঠোর আইন, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মানবপাচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভূমধ্যসাগর রুটে মানবপাচার প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, এতে প্রভাব পড়ছে অভিবাসীদের জীবনযাত্রা ও সামাজিক অবকাঠামোতে। প্যাকেজের মাধ্যমে আসা অভিবাসীরা অনেক সময় দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, এবং তাদের উপর পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণ থাকে।

এছাড়াও, ইতালির অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। বৈধ অভিবাসীদের শ্রম এবং রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। তবে অবৈধ পথে আসা অভিবাসীরা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ে, যা সামাজিক ও আইনগত চাপ সৃষ্টি করছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version