ব্রিটিশ হোম অফিসের উদ্যোগে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সম্প্রতি হেরেফোর্ডশায়ারে আরও একবার সাফল্য অর্জন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিতি এক অভিযানে দুইটি রেস্তোরাঁ থেকে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ‘জলসাগর’ রেস্তোরাঁ থেকে, যেখানে তার বিরুদ্ধে অভিবাসন সম্পর্কিত অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর চারজনকে ‘টেস্ট অব রাজ’ রেস্তোরাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন, এবং বাকী দুইজনকে জামিনের শর্ত ভঙ্গের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোম অফিস জানিয়েছে, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই দুটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দেওয়ার কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। হোম অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন…
অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার ফলে সৎ নিয়োগদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ এতে স্থানীয় মজুরি কমে যায় এবং সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ উস্কে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও জানান…
লেবার পার্টির ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী বছর এই পদক্ষেপ আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংলিশ চ্যানেলজুড়ে ছোট নৌকায় অভিবাসী আনা আটকানো যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০,৬৫২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন, যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে অতিক্রম করেছে। এই পরিস্থিতি লেবার পার্টির জন্য চাপ তৈরি করছে। জনমত জরিপে অভিবাসন-বিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টি এগিয়ে আছে, বিশেষ করে আগামী মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের আগে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ নভেম্বর ২০২৫-এ অভিবাসন সংস্কার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর আওতায় অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার জন্য ডিআরসি (ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো) নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতি কঠোর করা হয়েছে। হোম অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সহযোগিতা না করলে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হতে পারে। এরপর ডিআরসি সরকার ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এছাড়া, অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়াও তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া উন্নত করতে সম্মত হয়েছে।
ব্রিটিশ নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা, তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসীরা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন, স্থানীয় মজুরি ও চাকরির বাজারে প্রতিকূল প্রভাব ফেলছেন। সরকার এই নীতির মাধ্যমে সৎ নিয়োগদাতাদের সুরক্ষা দিতে চাইছে এবং বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে চাইছে। এই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এখন শুধু আইনগত উদ্যোগ নয়, বরং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বিত প্রক্রিয়া।
