ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি নারীদের উদ্দেশে বলেছেন, তারা লম্বা স্কার্ট পরলে ভালো মা হতে পারবেন—এমন মন্তব্যের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
তাজানি, যিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও, বলেন, ‘আকর্ষণীয়’ কোনো নারীকে বিয়ে করা ভালো লাগতে পারে। তবে এমন নারী হয়তো ‘অনেক প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাদের ছেড়ে দিয়েছেন, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং প্রতারণার প্রবণতা রয়েছে’।
তিনি বলেন, নিজের ছেলেকে তিনি এমন একজন নারীকে বিয়ে করার পরামর্শ দেবেন, যিনি ‘কম চাকচিক্যপূর্ণ’ ও বেশি নির্ভরযোগ্য—‘যিনি ভালো মা হবেন এবং বিয়েতে যে ভালোবাসার অঙ্গীকার করেছেন, তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন… এবং হয়তো অন্যদের তুলনায় একটু লম্বা স্কার্ট পরবেন।’
তাজানি ইতালির রক্ষণশীল জোট সরকারের তিন শরিক দলের একটি ফোরজা ইতালিয়ার নেতা। তাঁর মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রূপ শুরু হয়। একই সঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ক্যাথলিক চার্চও।
কেন্দ্র-বামপন্থী ফাইভ স্টার মুভমেন্টের এমপি কিয়ারা আপ্পেন্দিনো একটি বেঞ্চে মিনিস্কার্ট পরা অবস্থায় নিজের ছবি পোস্ট করে ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন করেন, তাহলে কি তিনি ভালো মা বা বিশ্বস্ত স্ত্রী নন?
ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘তাজানি, আমি কি নির্ভরযোগ্য নারী নই? আমি কি ভালো মা নই? ২০২৬ সালে এসে আমাদের কোনো সরকারি মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনতে হবে যে কম চাকচিক্যপূর্ণ এবং লম্বা স্কার্ট পরা নারীকে বিয়ে করাই ভালো। আমাদের নির্ভরযোগ্যতা কাপড়ের দৈর্ঘ্য দিয়ে মাপা হয় না।’
তুরিনের সাবেক মেয়র আপ্পেন্দিনো বলেন, এবার ‘মধ্যযুগকে পেছনে ফেলে আসার’ সময় হয়েছে।
ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বামপন্থী রাজনীতিক মাত্তেও রেনজি বলেন, ‘একজন নারীর স্কার্ট একটু ছোট হলেই তাকে যে দায়িত্বশীল মানুষ বলা যাবে না, এমনটা বলা যায় না। এটা কি ১৮ শতক?’
বিরোধী দল ইতালিয়া ভিভার এমপি মারিয়া এলেনা বোশি ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘নারীদের নির্ভরযোগ্যতা এবং খালি পা নিয়ে তাঁর তত্ত্বের পর এখন শুধু বাকি আছে—পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে তাজানি স্কুল, কর্মক্ষেত্র এবং সম্ভবত পার্লামেন্টেও বাধ্যতামূলক লম্বা স্কার্ট পরার ডিক্রি প্রস্তাব করবেন।’
পরে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান তাজানি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কথায় কেউ আহত হয়ে থাকলে আমি ক্ষমা চাইছি। তবে নারীদের অপমান করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। ব্যক্তিগত কিংবা জনজীবনে—কোনোভাবেই আমি কখনো নারীদের অপমান করতে চাইনি।’
তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি। সাবেক বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার ও বর্তমানে রাজনীতিক রবার্তো ভান্নাচ্চিকেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়—তিনি লম্বা না ছোট স্কার্ট পরা নারী পছন্দ করেন?
ভান্নাচ্চি বলেন, ‘লম্বা স্কার্ট পরা নারী আর ছোট স্কার্ট পরা নারীর মধ্যে আমি সবসময় স্কার্টবিহীন নারীকে পছন্দ করি।’
নতুন কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল ফিউচারের নেতা ভান্নাচ্চি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যটি নিছক হালকা রসিকতা ছিল। তবে গ্রিন-লেফট অ্যালায়েন্সের এমপি এলিসাবেত্তা পিক্কোত্তি তাঁর বিরুদ্ধে ‘পশুর পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার’ অভিযোগ তোলেন।
এই বিতর্কে শেষ পর্যন্ত ক্যাথলিক চার্চও যুক্ত হয়।
ইতালিয়ান বিশপস কনফারেন্সের প্রধান মন্সিনিয়র জুসেপ্পে বাতুরি বলেন, ‘একজন নারীকে উদ্দেশ করে বলা প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি দৃষ্টিতে শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা থাকা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘খ্রিষ্টানদের কাছে ঈশ্বরের বাণী প্রথম যে স্থানে মানবদেহ ধারণ করেছিল, সেটি ছিল একজন নারীর গর্ভ। আর বিশ্বাসীদের জন্য এই বিষয়টি নারীদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে অমোচনীয় প্রভাব ফেলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধা বিশেষভাবে জরুরি, কারণ তারা অনেক সময় অগভীর বা উপরিতলের দৃষ্টির শিকার হতে পারেন।’
