ইতালির সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের নাগরিকদের আবাসন সংকট দূর করতে বিশাল এক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আগামী ১০ বছরে ১ লক্ষ সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সাংবাদিক মৌরিজিও বেলপিএট্রোর সাথে এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো অন্তত ১০ বিলিয়ন ইউরো সরকারি বিনিয়োগে ১ লক্ষ ঘর নিশ্চিত করা। এর মধ্যে ৬০ হাজার পাবলিক হাউস রয়েছে, যেগুলো সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই পরিকল্পনার আসল শক্তি হবে বেসরকারি বিনিয়োগ। বিশ্লেষকদের মতে, এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরোর বেসরকারি পুঁজি যোগ হবে। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির মতে, আমস্টারডাম, ভিয়েনা বা লন্ডনের মতো সফল ইউরোপীয় শহরগুলোর মডেলেই এই ‘মাল্টিপ্লায়ার’ পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে দেখান, বর্তমানে মিলানে একজন শিক্ষক ১৭০০ ইউরো বেতন পান, যার মধ্যে প্রায় ১০০০ ইউরোই চলে যায় মাত্র ৪২ বর্গমিটারের একটি অ্যাপার্টমেন্টের কিস্তি বা ভাড়ায়। অর্থাৎ বেতনের প্রায় ৬৩ শতাংশই ঘর ভাড়ায় শেষ হয়ে যায়। নতুন ‘প্ল্যান কাসা’ কার্যকর হলে একজন শিক্ষক প্রতি মাসে অন্তত ৩৫০ ইউরো সাশ্রয় করতে পারবেন। এতে বছরে তাঁর পকেটে নিট ৪,২০০ ইউরো বেশি থাকবে, যা তাঁর দুই মাসেরও বেশি বেতনের সমান।
কেবল মিলানের শিক্ষকই নন, এই সুবিধার আওতায় আসবেন বোলোগনার পুলিশ সদস্য, রোমের সাধারণ কর্মী কিংবা নেপলসের নার্সও। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কেবল একটি ন্যূনতম অনুমান। বাজারের গতিশীলতা ও বিনিয়োগ বাড়লে সাধারণ ইতালীয়দের জন্য এর চেয়েও বড় আর্থিক সুবিধা বা সাশ্রয় নিশ্চিত হতে পারে। মূলত নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আবাসন খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনতেই এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প হাতে নিয়েছে মেলোনি সরকার।
তথ্যসূত্র: অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ( জর্জিয়া মেলোনি)
