বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ৩০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতালির সিসিলি অঞ্চলের কাতানিয়া শহরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় এক বাংলাদেশি মায়ের বিরুদ্ধে তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সময়মতো পুলিশের হস্তক্ষেপে শিশুটি প্রাণে রক্ষা পায়। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার কাতানিয়ার সান ক্রিস্তোফোরো এলাকায় ওই নারী হঠাৎ করে নিজের বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে শিশুটিকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা আঁচ করতে পেরে অভিযুক্ত নারীর বোন তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে কারাবিনিয়ারি বাহিনীর একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ শিশুটিকে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগে অভিযুক্ত মা পরিবারের সদস্যদের কাছে বেশ কয়েকটি উদ্বেগজনক ও আতঙ্কজনক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এসব বার্তায় তার মানসিক অস্থিরতা ও চরম হতাশার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পারিবারিক জটিলতা ও প্রবাসজীবনের একাকীত্ব তাকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে তার মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ইতালির আইন অনুযায়ী, শিশু নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মতো অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দোষ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ ঘটনায় ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটির নেতারা বলছেন, অভিবাসী পরিবারগুলোর মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, সামাজিক নজরদারি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসে বসবাসকারী অনেক মা একাকীত্ব, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক চাপ ও পারিবারিক দূরত্বের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সময়মতো সহায়তা না পেলে এসব সংকট ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই এমন ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক সহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version