বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ২৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতালির কন্সুলার সার্ভিসে ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত,নিরাপদ ও প্রযুক্তি নির্ভর করতে দূতাবাসগুলো এখন ভিডিও ইন্টারভিউ ব্যবস্থা চালু করেছে, বিশেষ করে নুলা ওস্তা বা কাজের অনুমোদন যাচাইয়ে।

এটি সরাসরি দূতাবাসে গিয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়ার বদলে অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যার মাধ্যমে আবেদনকারীরা, বাড়তি যাতায়াতের ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত সাক্ষাৎকার দিতে পারে ও প্রয়োজনীয় ডেটা সরাসরি কনস্যুলেটে পৌঁছায়, এমন একটি সুবিধাজনক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইতালির কাজের ভিসা পেতে হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগমনের আগেই নুলা ওস্তা নামে একটি কাজের অনুমোদন পত্র প্রাপ্তি প্রয়োজন। এই নুলা ওস্তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত প্রমাণপত্র এবং সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন পড়ে। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে জাল নথিপত্র ও ভুয়া আবেদন জমা পড়ায় প্রক্রিয়া দীর্ঘ বা জটিল হয়ে উঠেছে। এতে আবেদনকারীর পক্ষেও সময় ও খরচ বাড়ছিল।

ভিডিও ইন্টারভিউ-তে আবেদনকারী দূতাবাস বা নির্দিষ্ট ভিএফএস-এর মাধ্যমে ভিডিও কলে সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন, অন-স্ক্রিন পরিচয় যাচাই ও নথিপত্র দেখান এবং ওস্তা-সম্পর্কিত সব তথ্য সরাসরি প্রদান করেন। এভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হলে, আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়, বিভ্রান্তি কম হয় ও জাল নথি শনাক্তকরণ সহজ হয়, এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

ইতালির দূতাবাসগুলো যথার্থ যাচাই এবং নিরাপত্তা শর্ত পূরণের লক্ষ্যে সবসময়ই প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ইতোমধ্যে ইতালির ভিসা প্রক্রিয়ায় বায়োমেট্রিক ডেটা (জন্মগত তথ্য) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করা হয়, এটি ইতালির ভিসা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।

বাংলাদেশ থেকে কাজ বা অভিবাসন-ভিত্তিক আবেদনগুলোতে জাল নথি ও দীর্ঘ যাচাই প্রক্রিয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অনেক সময় নুলা ওস্তা যাচাইতে ভুল বা অস্পষ্ট তথ্য থাকলে আবেদন দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকে। ভিডিও ইন্টারভিউ চালুর ফলে সেক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ভুল শনাক্ত এবং সঠিক তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে, যা স্থানীয় আবেদনকারীদের জন্য সুবিধাজনক।

আবেদনকারীদের ভ্রমণ ব্যয় কমে যাওয়া এবং দূতাবাসে শারীরিককভাবে উপস্থিত না হয়ে ইন্টারভিউ দেওয়ার সুবিধা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুতাবাসে যাচাইয়ের কাজ চলাকালীন ভিডিও সাক্ষাৎকারে উত্তর মিললেও সিদ্ধান্ত দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে সরাসরি তথ্য এবং বায়োমেট্রিক মিলের মাধ্যমেও জাল নথি শনাক্ত করা সহজ হয়।

যদিও ভিডিও ইন্টারভিউ পদ্ধতি সুবিধাজনক, এর সাথে আরও কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন, ভিসার ক্ষেত্রে সকল তথ্য ও নথি বাস্তবে সঠিক ও প্রত্যয়নযোগ্য হতে হবে। নকল বা জাল নথি ব্যবহার করলে ভিসা প্রক্রিয়া ব্যাহত বা বাতিল হতে পারে, এবং ছবি ও পরিচয় যাচাইয়ে নকল ধরা পড়লে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইতালির দূতাবাসের এই ধারা ভিসা যাচাইকে আধুনিকতর ও নিরাপদ করে তুলতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিবাসন এবং বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে ইতালিতে যাওয়ার পথ আরো সুগম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য।

এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা, দ্রুততা এবং স্বচ্ছতা উন্নত করার দিকে একটি ইতিবাচক ধাপ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইতালি দূতাবাস বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের সাথে সরকারি যথাযথ ও নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে, এবং আবেদনকারীদের সব অফিসিয়াল নির্দেশাবলী অনুসরণ করা উচিত।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version