সেউতার অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে ইতালির পর এবার স্পেনের সরকারও দুই দেশের পর্যটকদের ওপর সীমান্ত তল্লাশির মেয়াদ বাড়িয়েছে। আকাশ ও সমুদ্রপথে ইতালি থেকে স্পেনে আগত যাত্রীদের জন্য সীমান্তে এই বিশেষ চেকিংয়ের সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। আগে এই সময়সীমা ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
গ্রীষ্মকাল থেকে শুরু হওয়া মাদ্রিদ ও রোমের মধ্যকার এই (কূটনৈতিক) দ্বন্দ্বের জেরে দুই দেশই পাল্টাপাল্টি এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর আগে স্পেনে আগত ইতালীয় পর্যটকদের ওপর গত ৮ আগস্ট থেকে এক আদেশের মাধ্যমে প্রথম এই সীমান্ত পরীক্ষা চালু করে স্পেন। স্পেন থেকে আগত ইতালীয়দের ওপর রোম সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত চেকিং চালু করার প্রতিক্রিয়ায় মাদ্রিদ এই পদক্ষেপ নেয়।
ইতালি ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব এই সীমান্ত পরীক্ষা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার কর্তৃক জারিকৃত সময়সীমার আরও ১৫ দিনের বর্ধিত রূপ। ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেডোসি তাঁর স্প্যানিশ সমকক্ষ ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এই কূটনৈতিক লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল গত জুলাই মাসের শেষের দিকে। সেউতা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অভিবাসীর অনুপ্রবেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্পেনের সাথে অবাধ যাতায়াতের ‘শেনজেন চুক্তি’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে জর্জিয়া মেলোনির সরকার। ইতালি বারবার যুক্তি দিয়ে আসছে যে, অভিবাসী সংকট এখনো অমিমাংসিত রয়েছে এবং এটি তাদের এই সীমান্ত পরীক্ষাকে যৌক্তিক করে তোলে।
স্পেন প্রথমে ইতালির এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু তাতে কোনো সুফল না পেয়ে পরবর্তীতে তারাও ইতালীয় যাত্রীদের জন্য সীমান্তে একই ধরনের চেকিং ব্যবস্থা চালু করে। এরপর থেকে দুই দেশই এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের কোনো স্থায়ী সমাধান না খুঁজে, সমান্তরালভাবে ১৫ দিন পর পর এই বিশেষ তল্লাশির মেয়াদ বাড়িয়ে চলেছে।
তবে এই মেয়াদ বাড়ানোর মানে সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা বা যাতায়াত বন্ধ হওয়া নয় এবং এটি দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াতের অধিকারকেও ক্ষুণ্ন করবে না। মূলত বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে পাসপোর্ট এবং জাতীয়তার র্যান্ডম বা আকস্মিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। আকাশ ও সমুদ্রপথের সব যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে, তবে চেকিংয়ের কারণে বাড়তি সময় লাগতে পারে বিবেচনায় যাত্রীদের হাতে সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
