রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ২২শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল সোশালিস্ট পার্টির (পিএস) সংসদীয় দলনেতা ইউরিকো ব্রিলহান্তে দিয়াস অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সাল থেকে তেলের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে পাওয়া অতিরিক্ত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ইউরো দিয়ে পর্তুগাল সরকার জনগণের করের টাকায় আয়েশ করছে।

বার্তা সংস্থা লুসাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দিয়াস বলেন, ‘এডি, পিএসডি এবং সিডিএসের জোট সরকার আংশিকভাবে করদাতার অর্থ এবং জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের ওপর বেঁচে আছে। পিএসডি খুব ভালো করেই জানে যে এটি অতীত নয়, এটি বর্তমানের সংকট এবং অত্যন্ত দুঃখজনক এক বাস্তব।’

সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিএসডি) সাধারণ সম্পাদক হুগো সোয়ারেসের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন দিয়াস। গত শনিবার পোন্তে দে লিমায় পিএসডির এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সোয়ারেস সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পিএস নেতা হোসে লুইস কার্নিরো আসলে ‘খেয়ালি’ এবং তিনি ‘অতীতে বাস করছেন’। তিনি দাবি করেন, অ্যান্টোনিও কস্তার নেতৃত্বাধীন সাবেক সোশালিস্ট সরকারই মূলত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে ফায়দা লুটেছিল।

এর জবাবে দিয়াস পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘চলতি বছরের মার্চ মাসে এডি জোট ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি লিটার পেট্রোলে ৬ সেন্ট এবং ডিজেলে ৯ সেন্ট দাম বেড়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এটি ২০২৪ ও ২০২৫ সালের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত ১০০ কোটি ইউরোরও বেশি অর্থের সমান।

দিয়াস আরও বলেন, ‘অতীতে সোশালিস্ট সরকারের আমলে পর্তুগিজরা পেট্রোলিয়াম ও জ্বালানি পণ্যের ট্যাক্সে (আইএসপি) বড় ধরনের ছাড় পেয়েছিল। সেই সাথে কার্বন ট্যাক্স ও ভ্যাটেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ছাড়গুলো কম-বেশি বজায় থাকলেও এই সরকার তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করেছে।’

পোন্তে দে লিমায় হুগো সোয়ারেসের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে দিয়াস বলেন, ‘হুগো সোয়ারেস বলেছেন—কার্নিরো হয়তো নিজেকে এখনো অ্যান্টোনিও কস্তা সরকারের আমলে ভাবছেন, অথবা তিনি অপ্রস্তুত। নয়তো কার্নিরো ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলছেন। সোয়্যারিসের এমন মন্তব্য অবান্তর। সত্য হলো, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তের কারণেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেশি। অথচ সোশালিস্ট পার্টি ক্ষমতায় থাকলে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম থাকত।’

পিএস সংসদীয় দলনেতার মতে, এটি এমন এক সময় যখন পর্তুগিজদের জন্য অতীতের মতো ‘অটো ভাউচার’ এবং আইএসপি ও কার্বন ট্যাক্সে সরকারি ছাড়ের মতো বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজন ছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী সোমবার থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.২০ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে।

হুগো সোয়ারেসের সমালোচনার জবাবে দিয়াস বলেন, পিএসডির সাধারণ সম্পাদক যখনই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, তখনই তাঁর প্রতিপক্ষকে মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার এক প্রবণতা দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘সোশালিস্ট পার্টি আর উগ্র ডানপন্থি দল “শেগা” এক নয়। পিএস নোংরা রাজনীতি করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয় না।’ তিনি যোগ করেন, কার্নিরো কেবল সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কার কথাই পার্লামেন্টে তুলে ধরেছেন।

দিয়াস আরও বলেন, গত শুক্রবার সোশালিস্ট পার্টি পার্লামেন্টে জ্বালানির ওপর ভ্যাট (মূল্যসংযোজন কর) কমাতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ঝুড়িতে শূন্য ভ্যাট চালুর জন্য পুনরায় একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে পর্তুগালের মানুষকে বাঁচাতে এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি।

জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে পর্তুগালের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। এর ফলে আবাসন ঋণের সুদ বাড়ার পাশাপাশি আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে বাড়ি ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। দিয়াস উপসংহারে বলেন, ‘এখন সরকারের উচিত বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া এবং পর্তুগিজ জনগণের ওপর চড়ে বেঁচে থাকার নীতি পরিহার করা।’

এদিকে অটোমোবাইল ক্লাব অব পর্তুগাল (এসিপি)-এর অনুমান অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহেই প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ সেন্ট এবং পেট্রোলে ১২ সেন্ট পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version