মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের প্রযুক্তি খাতে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোম্পানির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ইউরোপের মূল প্রযুক্তিগত ভূমিকাগুলোতে নারী কর্মীদের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। এই পতনের জন্য প্রধানত কর্মক্ষেত্রের নেতিবাচক সংস্কৃতিকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে যদি এখনই কোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে এই লিঙ্গবৈষম্য আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গবেষণাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪ মিলিয়ন লিঙ্কডইন প্রোফাইল এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মেয়েরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে ছেলেদের চেয়ে ভালো ফলাফল করলেও উচ্চশিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ কমে যায়। মাত্র ৩২ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী প্রযুক্তিবিষয়ক ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ভর্তি হন। যদিও পিএইচডির মতো উচ্চতর ডিগ্রিতে নারীরা বেশ এগিয়ে, তবুও কর্মক্ষেত্রে যোগদানের পর বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার মুখে তারা পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক দশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য নেওয়া বিভিন্ন বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি কর্মসূচিগুলো বর্তমানে শিথিল হয়ে পড়েছে। ফলে নারীদের এই ক্ষেত্রগুলোতে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাত যখন এআই-এর মাধ্যমে নতুন করে রূপান্তর হচ্ছে, তখন নারীদের বাদ দিয়ে উদ্ভাবন সম্ভব নয়। তাই কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সংস্কার এবং নারীদের সুযোগ বৃদ্ধিতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version