মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজ হওয়া তিন পর্তুগিজ নাগরিকের একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই পর্তুগিজ নাগরিক।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একজন পর্তুগিজ নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুইজনের সন্ধানে অভিযান চলছে।

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও চীনে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি।

চীনা কর্তৃপক্ষ রোববার সর্বশেষ আপডেটে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। ফলে দুই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে ধারাবাহিক কয়েকটি প্রাকৃতিক ঘটনা থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এসব ঘটনা তীব্র হয়েছে।

একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও গলিত পানি উপত্যকাগুলোতে নেমে আসে। এতে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। তিব্বত সীমান্তের কাছে তিমুরে, রাসুওয়াগাধি ও সিয়াব্রুবেশি শহরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পানির স্রোত চীনের ভূখণ্ডেও পৌঁছে যায়।

নজরদারি ক্যামেরার ধারণ করা কয়েক ডজন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ছোট ছোট গ্রাম, জলাধার, সেতু এবং বিভিন্ন অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

নেপাল সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে সামরিক বাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টার মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সড়ক, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত মেরামতের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version