রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬   |   ২৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘শেগা’ দেশটির সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে ২০২৬) দলটির নেতা আন্দ্রে ভেঞ্চুরা এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। ভেঞ্চুরা এই উদ্যোগকে “সংবিধানের পরিচয়ের রূপান্তর” হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছেন যে, বর্তমান সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্রের প্রসঙ্গ ও অতিরিক্ত মতাদর্শগত ভার অপসারণ করে একে “সকল পর্তুগিজের জন্য” একটি দলিলে পরিণত করতে হবে।

শেগার এই খসড়া প্রস্তাবে বেশ কিছু বিতর্কিত ও কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য অর্জিত নাগরিকত্ব হরণ করার বিধান এবং যৌন অপরাধীদের জন্য অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে রাসায়নিক পদ্ধতিতে খোজাকরণ বা পুরুষত্বহীন করার প্রস্তাব। এছাড়া দলটি জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবায় (SNS) পর্তুগিজ নাগরিকদের অগ্রাধিকার প্রদান, সংসদ সদস্যের সংখ্যা কমিয়ে ১০০-তে নামিয়ে আনা এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদ শুধুমাত্র জন্মসূত্রে পর্তুগিজ নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে।

তবে এই সাংবিধানিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু হলেও অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে চরম অনীহা দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (PSD) জানিয়েছে, যেকোনো সাংবিধানিক পরিবর্তন আইনসভার দ্বিতীয়ার্ধের আগে বিবেচনা করা উচিত নয়। অন্যদিকে সোশ্যালিস্ট পার্টি (PS) এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছে, মানুষের মনোযোগ অপরিহার্য বিষয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী অন্যান্য দলগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হলেও, এই আইনসভার মেয়াদে সংবিধান পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: পর্তুগাল ডিকোডেড 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version