পর্তুগালে বিমান পরিবহন সংস্থা ‘ইজিজেট’-এর কেবিন ক্রুরা আগামী সপ্তাহে পাঁচ দিনের ধর্মঘটে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল ফ্লাইট কর্মীদের জাতীয় ইউনিয়নের (এসএনপিভিএসি) ডাকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী শুক্রবার (২ অক্টোবর) থেকে ধর্মঘট শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। একই সপ্তাহে ৫ অক্টোবর পর্তুগালে জাতীয় ছুটির দিন ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ উদযাপিত হবে।
ইউনিয়নটির ধারণা, এই ধর্মঘটের কারণে লিসবন, পোর্তো এবং ফারো বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত প্রায় ৫০০ ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া আগামী ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী দফায় আরেকটি ধর্মঘটের কর্মসূচিও চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। ভ্রমণ বিষয়ক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের বিকল্প সূচি নির্ধারণের সুযোগ দিতে যুক্তরাজ্যগামী ও সেখান থেকে আসা প্রায় ৩৫টি ফ্লাইটসহ বেশ কিছু রুটের ফ্লাইট ইতিমধ্যে বাতিল করা শুরু করেছে সংস্থাটি।
শ্রমিক অসন্তোষের প্রধান কারণ হিসেবে এসএনপিভিএসি কাজের পরিবেশের অবনতি, ঘন ঘন দায়িত্বের তালিকা পরিবর্তন, যৌথ দরকষাকষি চুক্তি লঙ্ঘন, পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে বৈষম্য এবং কর্মী সংকটের কারণে অতিরিক্ত সময় কাজ করার চাপের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।
এ ছাড়া পর্তুগালের অন্যান্য এয়ারলাইনসের কর্মী এবং ইউরোপের অন্যান্য বাজারে ইজিজেটের কর্মীদের তুলনায় এখানকার কর্মীদের বেতন বৈষম্যের অভিযোগও এনেছে ইউনিয়নটি। জবাবে ইউনিয়নটির ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিরোধ নিষ্পত্তিতে দেশটির কর্মসংস্থান ও শ্রম সম্পর্ক মহাপরিচালকের (ডিজিইআরটি) মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ সমঝোতা আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
এদিকে পর্তুগিজ সরকারের এক ডিক্রিতে ধর্মঘট চলাকালে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ‘ন্যূনতম সেবা’ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বিশেষ করে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে লিসবন ও পোর্তোর সঙ্গে ফুনশাল এবং পোর্তো সান্তো সংযোগকারী রুটগুলো।
