জ্বালানি তেল (পেট্রল ও ডিজেল) থেকে পাওয়া রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে শুরু করেছে পর্তুগালের পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে দেশটির সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলের ঘাটতি পূরণে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) মালিকদের চলাচলের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, গাড়ির পর্যায়ক্রমিক পরিদর্শনের (ইনস্পেকশন) সময় রেকর্ড করা দূরত্বের (মাইলেজ) ওপর ভিত্তি করে এই ফির পরিমাণ নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন কোনো ফি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়নি।
সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিকিউটিভ ডাইজেস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিটি যান কতটা পথ অতিক্রম করেছে তা নির্ধারণ করতে পরিদর্শনের তথ্য ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন পরিবহন ও গতিশীলতা ইনস্টিটিউটের (আইএমটি) সভাপতি জোয়াও জেসুস কায়েতানো। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে সড়ক ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। মোটরওয়ে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিসার প্রধান নির্বাহী আন্তোনিও পিরেস দে লিমাও এই প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওইরাসের কার্নাক্সিডে গতিশীলতা ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের (এএমটি) উপস্থাপিত সড়ক অর্থায়ন সংক্রান্ত এক গবেষণার সূত্রে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং বিদ্যমান চুক্তিগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে পর্তুগাল কীভাবে তার সড়ক ব্যবস্থার অর্থায়ন বজায় রাখবে, গবেষণায় তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
দেশটির সড়ক অবকাঠামো তদারককারী সংস্থা ‘ইনফ্রাস্ত্রুতুরাস দে পর্তুগাল’-এর তহবিলের একটি বড় অংশ আসে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর ধার্য কর থেকে। কিন্তু গাড়িচালকেরা দিন দিন পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে থাকায় সেই রাজস্বের উৎস দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গবেষণাটির তথ্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যম ‘পিপলওয়্যার’ জানিয়েছে, ইনফ্রাস্ত্রুতুরাস দে পর্তুগালের হিসাব অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে যদি বৈদ্যুতিক গাড়ির হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছায়, তবে বছরে দেশটির রাজস্ব আয় ১৪ কোটি থেকে ২০ কোটি ইউরো পর্যন্ত কমতে পারে। এএমটির যুক্তি, ভবিষ্যৎ সড়ক অর্থায়নে বৈদ্যুতিক গাড়ির চালকসহ সড়কের সব ব্যবহারকারীর অবদান থাকা উচিত।
তবে পরিদর্শন রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে এই ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে কিছু প্রায়োগিক জটিলতা রয়েছে। পর্তুগালে নতুন যাত্রীবাহী গাড়িগুলোর প্রতি বছর পরিদর্শনের নিয়ম নেই, ফলে মাইলেজের সার্বক্ষণিক হিসাব পেতে ফাঁক থেকে যায়। অন্যদিকে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে আরেকটি জটিলতা রয়েছে, কারণ দেশটিতে বর্তমানে মোটরসাইকেলগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের আওতাভুক্ত নয়।
সামগ্রিক গবেষণায় সড়ক ব্যবহারের ওপর ধার্য ফির সঙ্গে পরিবেশগত ও রাজস্ব নীতি এবং সরকারি তহবিলের সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, যেকোনো নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক পার্থক্য এবং সাধারণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভরশীলতার মাত্রা বিবেচনায় নিতে হবে।
