লিসবন বিমানবন্দরে অ-ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ আবারও পুরোদমে সচল করা হয়েছে। গত অক্টোবরে চালুর পর যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহে বিশৃঙ্খলার কারণে সরকার এটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, বছরের শুরু থেকে ধাপে ধাপে চালুর পর এখন এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণ কার্যকর।
গত ডিসেম্বরে ইউরোপীয় কমিশনের এক পরিদর্শনে লিসবন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে “গুরুতর ঘাটতি” পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষ করে ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের সময় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় চরম জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিন মাসের জন্য সিস্টেমটি স্থগিত রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে বিমানবন্দরে নতুন ‘সেলফ-সার্ভিস কিয়স্ক’ বসানো হয়েছে, যেখানে যাত্রীরা নিজেরাই নিজেদের বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে পারবেন।
নতুন অ্যাপ ও বাড়তি নিরাপত্তা:
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে গত সোমবার থেকে পর্তুগাল ইউরোপীয় মোবাইল অ্যাপ ‘ট্রাভেল টু ইউরোপ’এ যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইইউ-এর বাইরের দেশ থেকে আসা যাত্রীরা পৌঁছানোর ৭২ ঘণ্টা আগেই তাদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। এছাড়া, আসন্ন ইস্টার এবং পর্যটন মৌসুমের ভিড় সামলাতে পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ এবং ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ডের অতিরিক্ত ২৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে এই ইইএস সিস্টেম ১০০% কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিস্টেমটি প্রথাগত পাসপোর্ট স্ট্যাম্পের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণে আসা সকল অ-ইউরোপীয় নাগরিকের (ভিসা থাক বা না থাক) জন্য বাধ্যতামূলক। এর ফলে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
