ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে, যার ফলে গ্যাস ও তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ১৭১.৩৪ পেন্স (২.২৯ ডলার) এ পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর ব্রিটেনে গ্যাসের দাম আর কখনোই এই পর্যায়ে ওঠেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে পাইকারি গ্যাসের দাম মাত্র ৭১.১৩ পেন্স থেকে প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ডের পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটেন তার প্রয়োজনীয় গ্যাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে কাতারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই প্রভাব সরাসরি ব্রিটিশ অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে।
জ্বালানি সংকট কাটাতে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে এক অত্যন্ত জটিল ও কঠিন আলোচনার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইইউ নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ তাদের নয় এবং তারা এতে সরাসরি জড়াতে চান না।কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর ইউরোপের বিকল্প জ্বালানি উৎসগুলো সীমিত হয়ে পড়েছে।
সংকট মোকাবিলায় পোল্যান্ড ও ইতালির মতো দেশগুলো সাময়িকভাবে কার্বন ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্পেন ও জার্মানি এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং পরিবেশগত নীতি থেকে সরে আসতে নারাজ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ইউরোপের প্রতিটি দেশ এখন অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে। ব্রাসেলসের আসন্ন বৈঠকে এই নীতিগত বিরোধগুলো মেটানোই হবে প্রধান লক্ষ্য।
