রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬   |   ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে শুরু হয়েছে বিশ্বের ধাত্রী ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক মিলনমেলা ‘৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ মিডওয়াইভস (আইসিএম) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেস’। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। গত ১৩ই জুন (২০২৬) থেকে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি আগামী ১৮ই জুন পর্যন্ত পর্তুগালের মাটিতে পুরোদমে চলবে।

মিডওয়াইফ’ মূলত এক শ্রেণীর বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যারা নারীদের গর্ভাবস্থা, প্রসব বেদনা ও সন্তান জন্মদানের অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে বিশেষায়িত ও মানবিক চিকিৎসাসেবা দান করে থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভাবস্থায় ও সন্তান জন্মের সময় নারীদের এই মিডওয়াইফের প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করাই ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ মিডওয়াইভস (আইসিএম)-এর মূল আন্তর্জাতিক উদ্দেশ্য।

সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের সেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের একটি বড় এবং আধুনিক রোডম্যাপ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি নতুন মিডওয়াইফ বা ধাত্রী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের একটি মেগা পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

এই পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “আগামী কয়েক বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের এই বিশাল পরিকল্পনা বাংলাদেশের মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। এটি আমাদের শুধু স্বাস্থ্যখাতে সাধারণ কোনো সাময়িক বিনিয়োগ নয়, বরং এটি সামগ্রিকভাবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান সুরক্ষার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সফল বিনিয়োগ।”

তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, “মিডওয়াইফরা মূলত মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষার ক্ষেত্রে একেবারে প্রথম সারির আসল যোদ্ধা। তাই একটি প্রকৃত সুস্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের তৃণমূলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রেই মিডওয়াইফদের স্থান দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা দেশে এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দেশের প্রতিটি মা নিরাপদ গর্ভধারণ, নিরাপদ প্রসব এবং মানসম্মত প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতভাবেই পাবেন।”

ড. হায়দার তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে বাংলাদেশে মিডওয়াইফারি পেশার আধুনিক বিকাশ, শিক্ষা ও মানোন্নয়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর দীর্ঘদিনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার কথা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতেও UNFPA এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যা দেশের মিডওয়াইফারি শিক্ষা, উন্নত প্রশিক্ষণ, নতুন নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ের সেবার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নয়নে আরও দ্রুত অগ্রসর হতে সাহায্য করবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version