ইউরোপীয় দুই শক্তিশালী দেশ ফ্রান্স ও পর্তুগালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বিষয়ক ‘পোর্তো চুক্তি’ । লিসবন ও প্যারিসের কূটনৈতিক মহল বর্তমানের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “চমৎকার” হিসেবে অভিহিত করেছে, যা মহাদেশীয় রাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। মূলত প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাতে দুই দেশের সম্পর্ককে একীভূত ও সুসংহত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ভয়াবহ ব্ল্যাকআউটের পর ইউরোপীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের সাথে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের সংযোগ বাড়ানোকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
চুক্তির অধীনে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার স্পেসে ‘হাইব্রিড হুমকি’ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগরকে কেন্দ্র করে একটি টেকসই ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ফ্রান্স বর্তমানে পর্তুগালের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ফ্রান্সে বসবাসরত প্রায় ১৭ লাখ পর্তুগিজ নাগরিক এই সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডের মতো ইইউ-এর প্রধান দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করার নীতি গ্রহণ করেছেন। পর্তুগালের সাথে এই ‘পোর্তো চুক্তি’ তাঁর সেই ইউরোপীয় ভিশন বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই একটি সফল বাস্তবায়ন। যদিও ফ্রান্সে পর্তুগিজ ভাষা শিক্ষক স্বল্পতার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবে নিয়মিত ‘হাই লেভেল মিটিং’ এর মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখা হয়েছে।
