সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬   |   ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আইন অমান্য ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর এক অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। অলকানতারা এবং আলজেস এলাকার মধ্যবর্তী আভেনিদা ব্রাসিলিয়া সড়কের একটি বার বা নৈশকালীন ক্লাব এলাকা থেকে পাঁচজন আরোহী নিয়ে একটি প্রাইভেট কার দ্রুত গতিতে বের হয়ে আসছিল। এ সময় পুলিশ চেকপোস্টে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা গাড়িটিকে থামার নির্দেশ দিলে, চালক গাড়ি না থামিয়ে উল্টো সরাসরি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর গাড়িটি চালিয়ে দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তাটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নিজেকে বাঁচিয়ে নেন এবং পিএসপি পুলিশের বিশেষ মোটরসাইকেল স্কোয়াড তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটিকে ধাওয়া শুরু করে।

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আঁকাবাঁকা পথে লিসবনের রাস্তা দিয়ে পালাতে থাকে। কিন্তু প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বেলেম-এর ‘মিউজিউ দো কম্বাতেন্তে’ ভবনের সামনে এসে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা দুটি জিপ গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়।

গাড়িটিতে আগুন লাগার পর দুজন আরোহী নিজে থেকেই অক্ষত অবস্থায় বের হতে পারলেও, বাকি তিনজন গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় ভেতরে আটকা পড়েন। পর্তুগিজ দৈনিক ‘কোরিও দা মানহা’ (Correio da Manhã) জানিয়েছে, ঠিক যে পুলিশ কর্মকর্তাটিকে গাড়ি চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল, তিনিই নিজের জীবন বাজি রেখে জ্বলন্ত গাড়ির কাছে ছুটে যান এবং ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ২৫ থেকে ৩১ বছর বয়সী তিন আরোহীকে জীবিত টেনে বের করে আনেন।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন আরোহী সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তাটি দ্রুততার সঙ্গে তাঁকে বের করে না আনলে তিনি জীবন্ত পুড়ে মারা যেতেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সান্তা মারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই তিন আরোহীর কোনো পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড নেই। ফলে কেবল গাড়ির চালককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা এবং বেপরোয়া ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, লিসবনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক সশস্ত্র ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে এই যুবকদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা প্রথমে খতিয়ে দেখছিল পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাঁরা সবাই মূলত আমাদোরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

এই রক্তক্ষয়ী ধাওয়া ও সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো—ঘটনাটি ঘটেছিল গতকাল রোববার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে। যখন মদ্যপান না করে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে জগিং করছিলেন কিংবা সাইকেল চালাচ্ছিলেন। সামান্য ভুলের কারণে সাধারণ পথচারীরাও এই বিপজ্জনক উন্মাদনার শিকার হতে পারতেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তার বীরত্ব ও সাহসিকতার কারণে এক বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version